বগুড়ার চাষীরা এখন শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারে আগাম জাতের সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। উত্তরাঞ্চলের সবজিখ্যাত বগুড়ার শীতকালীন শাক-সবজি দেশের বিভিন্ন বড় বড় বাজারগুলোতে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা নিয়ে নবগঠিত কৃষি বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২ হাজার হেক্টর। গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বগুড়া জেলায় সবজির মধ্যে বেগুন ৬৯০ হেক্টর, শিম ৪৯০ হেক্টর, মূলা ৬৭০ হেক্টর চাষ হয়েছে। শীতের শুরুতে এসব সবজি বাজারে উঠবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। তাই শীতের সবজি চাষে এখন ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষকরা। ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম অনেক চড়া। তবে চাষীরা জানিয়েছেন, শীতকাল পুরোপুরি শুরু হলে দাম আরও কমবে।

বগুড়ার খুচরা বাজারে নতুন সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৪০-৫০ টাকা, শিম ৬০-৮০ টাকা, ফুলকপি ৮০-১০০ টাকা, বাধাকপি ৪০-৬০ টাকা, পালং শাক ৪০-৬০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে বগুড়ার পাইকারী বাজার মাহস্থান, নয়মাইল, মোকামতলা, চন্ডিহারা, দশমাইলসহ বিভিন্ন বাজারের সবজি পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি বিদেশে রফতানি করছেন।

মাটিডালি এলাকার সবজি চাষী নজরুল ইসলাম জানান, শীত শুরু হয়েছে সে কারণে শীতকালীন শাক-সবজি চাষাবাদ করছি।

পল্লীমঙ্গল এলাকার চাষী খলিলুর রহমান বলেন, শীতের আগেই শীতকালীন শাক-সবজি জমিতে লাগিয়েছিলাম। সেগুলো এখন বাজারে বিক্রি করছি। আগাম শীতকালীন সবজি বিক্রি করে ভালো লাভবান হচ্ছি।

মহাস্থান হাটের পাইকারী ক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, এখান থেকে এসব শাক-সবজি কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের বাজারগুলোতে পাইকারি বিক্রি করে থাকি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চন্ডিদাস জানান, বগুড়া খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে খ্যাত। এখানকার চাষীরা যে ফসলই চাষাবাদ করে তা ভালোভাবেই করে থাকেন। বগুড়া জেলায় উৎপাদিত সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে সবজি চাষের যে টার্গেট তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।

জেআই