ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মেঘনা ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে। ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত এই নৌপথে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলা জেলার বিভিন্ন রুটে চলছে অসংখ্য যাত্রীবাহী ট্রলার।

এছাড়াও সরকারি নৌ যান সি-ট্রাক বিকল থাকায় তজুমদ্দিন-মনপুরা রুটে জীবন বাজি রেখে যাত্রীরা উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন সব জেনেও নিরাপদ কোন নৌযান চালু করতে পারছে না।

বর্তমানে মেঘনা উত্তাল হওয়ার কারণে ক্রমেই বাড়ছে ট্রলার ডুবির ঘটনা। গত ১ মাসে ৩টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ১টি ফিসিং বোট এবং অন্য ২টি যাত্রীবাহী ট্রলার।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলাচলকারী এসব ট্রলারকে এখনই নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে আরও ট্রলার ডুবির পাশাপাশি হতাহতের মত বড় দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

কালবৈশাখী ঝড় ছাড়াও মনপুরার চতুর্দিক বেষ্টিত রাক্ষুসে মেঘনা ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে। এই উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে গিয়ে এরই মধ্যে ৩টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় মনপুরার মেঘনায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার 'এফ.বি আল্লাহ মালিক' নামের একটি ফিসিং বোট প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে পড়লে ২৪ জেলে নিখোঁজ হয়।

পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টায় নিঝুম দ্বীপের শতকুল এলাকা থেকে নিখোজ ঐ ২৪ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় জীবন্ত উদ্ধার করেছে হাতিয়া কোস্ট গার্ড।

উদ্ধার হওয়ার পর কোস্ট গার্ডের তত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে জেলেরা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় নিজ বাড়ি ফিরে যান।

এদিকে, ২১ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিনের রিজিরখাল নামক এলাকা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রাণকৃষ্ণ বাবু লাইনে মোসলেহ উদ্দিন মাঝির ট্রলার নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মনপুরার চৌধুরীর ঘের সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ও ঝড়ো বাতাসে ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করে।

অপরদিকে, একই দিন তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা ঘাট থেকে সিরাজ মাঝির অপর একটি যাত্রীবাহী ট্রলার প্রায় ৩০/৩৫ জন যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের মালামাল নিয়ে মনপুরার কলাতরীর চরের কবির বাজারের উদ্দেশ্যে বিকাল সাড়ে ৩ টায় রওয়ানা হয়।

ট্রলারটি কবির বাজারের প্রায় কাছাকাছি পৌছলে প্রচন্ড বাতাস এবং ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারের নিচের অংশ ফেটে গিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা মালামাল উদ্ধার করা না গেলেও পাশে থাকা আরেকটি ট্রলারের লোকজন যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে।

উল্লেখিত ৩টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঘটতে পারতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা। বর্তমানে সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যেভাবে যত্রতত্র যাত্রীবাহী ট্রলার চলছে তাতে উত্তাল মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনা বৃদ্ধির আশংকায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

এমকে