ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতের যে কোটি কোটি মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমিও ছিলাম তাদের মধ্যে একজন।

নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক কখনো ভাঙ্গার নয়, আর কোনো কূটনীতির শিকারও হবে না এই দুই দেশের সম্পর্ক। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সদা-সর্বদা অটুট থাকবে।

রবিবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি।

এর আগে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেটের কাছ থেকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা গ্রহণ করেন মোদি।

এসময় বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সম্মাননা গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ভাষণে বলেন, এ সফর আমাদের জন্যে প্রেরণা। আজ বাংলাদেশ অটল বিহারী বাজপেয়িকে সমম্মানিত করছে।

তিনি আরো বলেন, ভারত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে অটল বিহারি যা করছেন তার জন্য আজ বাংলাদেশ অটল বিহারি বাজপেয়িকে সম্মানিত করছে । যার কারণে আমি বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ।

মোদি বলেন, বাজপেয়ির রাজনীতি আমাদের মতো হাজারো রাজনীতিককে পথ দেখিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে এই পুরস্কার নেয়ায় আমি গর্ববোধ করছি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা, যার হাত ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো তার কন্যার উপস্থিতিতে এই সম্মাননা গ্রহণ করে আমি আরো সম্মানিত বোধ করছি।

একাত্তরের ডিসেম্বরে ভারতে পার্লামেন্টে বাজপেয়ির একটা ভাষণের কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাজপেয়িজির ভাষণ শুনেই আমি একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সমর্থনে ‘সত্যাগ্রহে’ অংশ নিতে গুজরাটের নিজ গ্রাম থেকে দিল্লিতে ছুটে এসেছিলাম।

ভাষণে বাজপেয়িজি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভাই। তাদের ওপর অন্যায়ভাবে অবিচার, হত্যা চালানো হচ্ছে। আমাদের উচিত বিশ্বের দরবাদের তাদের স্বাধীনতা বার্তা পৌঁছে দেয়া। তারা যে স্বাধীনতা সংগ্রাম করছে, আমি তার আসু বিজয় দেখছি।’

‘দেরি হলেও আমরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। আমাদের এই দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই ভাঙ্গবে না, কখনো কোনো কূটনীতি আমদের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারবে না।‘

মোদি বলেন, বাজপেয়িজির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভাঙ্গার নয়, কোনো কূটনীতি এ সম্পর্ক ভাঙ্গতে পারবে না।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সাবেক সভাপতি অটল বিহারি বাজপেয়ি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

ওই সময় ভারতীয় জনসংঘের সভাপতি এবং লোকসভার সদস্য হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং মুজিবনগর সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য তৎকালীন ভারত সরকারের কাছে দাবি জানান।

তার নেতৃত্বে ভারতীয় জনসংঘ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সত্যাগ্রহ আন্দোলন ও প্রতিবাদ র‍্যালির আয়োজন করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকার এ পুরস্কার চালু করে। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিসহ সে দেশের ২২৬ জনকে এ পর্যন্ত এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরকালে তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল।

এসএইচ