বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) প্রতিনিধিরা ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় পুলিশ সদরদপ্তরে এই বৈঠকে এনআইএর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। সেখানে এনআই এর মহাপরিচালক শারদ কুমারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটিতে ছিলেন সংস্থার উপ-মহাপরিদর্শক সজীব ফরিদ, আইজি (তদন্ত) সঞ্জীব কুমার সিং ও ডিআইজি (তদন্ত) অনুরাগ তানখা।
বাংলাদেশের পক্ষে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
সোমবার ঢাকা পৌঁছানোর পর এনআইএর প্রতিনিধি দলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পরিচিতি সভায় অংশ নেয়। পরে সেখানেই বাংলাদেশের ছয় সদস্যের কমিটির বৈঠকে বর্ধমানের ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনের নামের তালিকা হস্তান্তর করেন তারা।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, “অল্প কিছু, অল্প কয়েক জনের নাম। এক জঙ্গির শত নাম থাকে। এ নামগুলো আমরা যাচাই বাছাই করছি। আসলে তারা কোন দেশের নাগরিক, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।”
“বাংলাদেশের সংস্থাগুলো তাদের চেনে কী-না, কিংবা তাদের সম্পর্কে জানে কী-না, সেটাই জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের কয়েকজনের আত্মীয়-স্বজনের নাম পরিচয়ও পরীক্ষার জন্য এনআইএ কর্মকর্তারা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এনআইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান বলেছিলেন, “ভারতের সন্দেহ, ভারত ও বাংলাদেশ- দুই দেশেই দুষ্কৃতীরা রয়েছে। এদের খুঁজে বের করা দরকার। তাদের এই আবেদন উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় বলে আমরা মনে করি।”
গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার পর এনআইএ তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
বর্ধমান বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে এনআইএ, যার মধ্যে শেখ রহতুল্লাহ সাজিদসহ কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছে বলে তাদের দাবি।
এনআইএর গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে হত্যার একটি ছকও কষছে জঙ্গিরা। এর পরপরই বাংলাদেশে তদন্ত চালানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং তাদের এই সফর চূড়ান্ত করা হয়।
জেইউ, জেএ





