ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের গেটে উল্টে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় ৭ বছর বয়সী ছেলে সাকিব। এরপর মারা যায় গর্ভে থাকা ৬ মাসের ভ্রুণ। সন্তানদের টানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন মাও।

আজ শনিবার দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ সকাল ৯টায় হাসপাতাল গেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি উল্টে গেলে পথচারীরা চাপা পড়েন।

নিহতরা হলেন সাকিব (৭), তার মা গোলিনুর বেগম (২৫), অপর নিহত আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তির নামপরিচয় পাওয়া যায়নি, স্থানীয়রা জানায় ফাঁড়ির সামনের রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করতেন। হাসপাতালে নেয়ার পর দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত একজন নারী মারা যান।দুর্ঘটনায় গোলেনুরসহ আহত হন আরও ৫জন।

তারা হলো সজীব (৬), তার মা সূর্য বেগম (৪০), রমজান (৪০) ও বাচ্চু মিয়া (৩০)। তাদের ঢামেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।   

নিহত সাকিবদের বাসা রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায়। তার বাবা ফেরদৌস মিয়া জানান, তারা সূত্রাপুর এলাকায় থাকেন। কিছুদিন আগে তার ছেলে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। তার চিকিৎসার জন্য আজ সকালে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি।

জরুরি বিভাগে ঢোকার আগে দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্সটি তার স্ত্রী ও ছেলেকে চাপা দেয়। এতে একজন নিহত ও একজন আহত হয়। তবে তিনি ও তার আরেক সন্তান বেঁচে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘মানব সেবা’নামে কোম্পানির ফাঁকা ওই অ‌্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের উপর উঠে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওই অ্যাম্বুলেন্সের মালিক নাসির মিস্ত্রী। ওই সময় নাসিরের সহকারী সোহেল গাড়ি চালাচ্ছিল। সোহেলকে আটক করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি মো. আবু বকর জানান, লাশ দু'টি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালককে আটক করা হয়েছে।

এমবি