ইন্দুরকানী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত, চলতি আর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় মুখ থুবরে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়াই বেশিরভাগ কর্মকর্তাই কর্মস্থলে থাকছেন অনুপস্থিত। ইউএনও ছুটিতে কিংবা বাইরে থাকলে জবাবদিহিতার প্রশ্ন না থাকায় অফিসে হাজির হলেও তারা যে যার মতো চলে যান। ফলে উপজেলা প্রশাসনের অফিস গুলোর দাফতরিক কার্যক্রম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পোষ্টিং থাকলেও তিনি মাসে ২/১ দিন অফিস করছেন। উপজেলা প্রকৌশালী না থাকার কারনে দায়িত্ব পালন করছেন ভান্তারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহ্ আলম । মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারি মাধ্যমিক কর্মকর্তা মীর একে এম আবুল খায়ের। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশালীর দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহ-প্রকৌশালী আবুল কালাম আজাদ। উপজেলার বিআরডিবি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন সুপার ভাইজার মোঃ মহিউদ্দিন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করছে এটিও পূরবী রাণী।
উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে দায়িত্ব পালন করতেছে অফিস সহকারী আঃ ছালাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দায়িত্বে আছেন সহকারি পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেন। উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ট্রেনিং এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেছেন মোঃ ইব্রাহিম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছে এমদাদুল হক, উপজেলা মৎস কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেছে সরদার জুলফিকার আলী। উপজেলা খাদ্য বিভাগে কোন কর্মকর্তা না থাকায় সকল কাজ করে একজন অফিস সহায়ক মোঃ আলতাফ হোসেন।
এভাবে উপজেলা পরিষদের আওতাধীন ১৭ টি দফতরের মধ্যে ১১ টি দফতরের প্রধান কর্মকর্তার পদে ভারপ্রাপ্ত, চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সহকারী কর্মকর্তাদেরকে। এসব দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই যথাযত নিয়মে দায়িত্ব পালন করছেন না। উপজেলা প্রকৌশালী না থাকার কারনে এখন পর্যন্ত এডিপি প্রকল্প কাজের তালিকা চুড়ান্ত করা হয় নাই এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সঠিক হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া য়ায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই উপজেলা কম্পাউন্ডে থাকছেন না। তাদের কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী উপজেলা শহর কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলা পিরোজপুরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানায়, উপজেলা কম্পাউন্ডারের ভিতরে, গেজেটেড সহ অন্য কোয়ার্টারে সাধারন কর্মচারীরা ভাড়া না দিয়েই দীর্ঘদিন আত্মীয় স্বজন নিয়ে বসবাস করতেছে। কর্মকর্তারা গেজেডেট কোয়ার্টার চাইলেও কর্তৃপক্ষ দিতে দুর্বলতা প্রকাশ করেন এবং কোয়ার্টারগুলো বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে । এই উপজেলায় কর্মস্থল না কিন্তু তারপরেও অন্যদের নামে বরাদ্দ করে দখল করে আছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের চলতি দায়িত্বে থাকা মোঃ ইব্রাহিম নিয়মিত ট্রেনিংএ উপস্থিত থাকেন না অথচ প্রাথমিক শিক্ষকদের ট্রেনিং এর সম্মানী ভাতা নিয়মিত নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা সপ্তাহে ২/১দিন অফিস করে এমনকি মোটেই অফিস করেনা বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারনে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি নেই। সাধারন জনগন সঠিক ভাবে সেবা পাচ্ছে না বিভিন্ন ধরনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন বিভাগে যে পরিমান কর্মচারী থাকা দরকার তাও নেই।
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল হুদা মাসিক সভায় জানান, সকল কর্মকর্তাকে নিয়মিত ভাবে সঠিক সময় অফিস করার জন্য নির্দেশ দেন এবং কোন সভা মিটিংএ অফিসের কর্মকর্তাদের সকল তথ্যাদি নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন, পরবর্তী মিটিংএ কর্মকর্তার প্রতিনিধি না থাকার জন্য নির্দেশ দেন এবং অফিস চলাকালিন সময় অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ।
উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী জানান, ভারপ্রাপ্ত, চলিত ও অতিরিক্ত দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তর কার্যক্রম চলছে বিধায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কাজ ব্যপক ভাবে বিঘ্নীত হচ্ছে । আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য মাননীয় মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষটি একাধিকবার জানানো হয়েছে কিন্তু কোন সমাধান হয়নি তবে আশাকরি শিঘ্রই সমাধান হবে। যারা নিয়মিত অফিসে আসেন না তাদের জন্য ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হবে।
মোঃ কেফায়েত উল্লাহ/জেড





