বেনাপোল চেকপোষ্টে বন্দর শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ নয়জন আহত হয়েছে।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ভারত থেকে ফিরে আসা একজন বাংলাদেশী মহিলা পাসপোর্ট যাত্রীর শাড়ী আটক করে কাষ্টম কর্মকতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনাপোল পৌর সভার কাউন্সিলর রাশেদ আলী চেকপোষ্ট কাষ্টম সুপার হাসানুজ্জামানের কাছে প্রতিবাদ জানাতে যায়।

এসময় বাউন্ডারী গেটে কর্তব্যরত ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিতরে যেতে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কর্তব্যরত আরো কয়েকজন পুলিশ ঘটনা স্থলে এগিয়ে এলে রাশেদের লোকজন পুলিশের উপর চড়াও হয়। এসময় দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

রাশেদের লোকজন বেধড়ক পুলিশকে পেটায় এবং কাষ্টম ভবনের বিভিন্ন অংশ ভাংচুর করতে থাকে। খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। এ সময় রাশেদের লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য পুলিশ কমপক্ষে ৫০ রাউন্ড গুলি চালায়।

উভয় পক্ষের হামলায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয় ৮ জন। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ঘটনা স্থল থেকে কাউন্সিলর রাশেদসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে আটক রাশেদকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য রাশেদের লোকজন বেনাপোল বন্দর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রেখেছে। বন্দর থেকে কোন মালামাল লোড- আনলোড হচ্ছে না। দু'দেশের মধ্যে আমদানী-রপ্তানী বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল-যশোর সড়কে সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য বেনাপোলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, পুলিশের ওপর প্রথমে হামলা চালায় শ্রমিকরা, পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও ২০/৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে শ্রমিকদের ওপর।

সংঘর্ষে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সাথে জড়িত পৌর কাউন্সিলর সহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

এমকে