সারাদেশে অব্যাহত মাদক বিরোধী অভিযানের নামে পুলিশের অব্যাহত কথিত বন্দুকযুদ্ধে ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় ২ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুই জনকে মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শহরতলীতে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' আহসান উল্লাহ খান নোমান (৪০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সদর উপজেলার ৭নং চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, নিহত নোমান নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৪ টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি পুলিশের কাছ থেকে পলাতক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। নোমান নগরীর সেনবাড়ী এলাকার মঞ্জুরুল হক খানের ছেলে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আহসান উল্লাহ খান নোমান উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন সংবাদ আসে। এর ভিত্তিতে ওই স্থানে পুলিশের একটি দল পৌঁছালে নোমানের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথাড়ি গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।
একপর্যায়ে উভয়ের পক্ষের গুলাগুলির মাঝে পরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নোমান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নোমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই ) তানজিল, কনেস্টেবল ইলিয়াস ও সামিউল নামে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম শহর আলী (৩৮)। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তাদের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরতলীর শেখ রাসেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহর আলী কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার বাসিন্দা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য কেনা-বেচার উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী শহরের হরিপুর-কুষ্টিয়া সংযুক্ত রাসেল সেতুর নিচে অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ জানতে পারে নিহত ব্যক্তি জেলার তালিকা ভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শহর আলী। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১২টি মাদকের মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশি ওয়ান শুটারগান, ৩টি গুলি ও ৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমানসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ শহর আলীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
জেড





