সিলেটে ফাইজা বেগম (১৯) নামের এক নববধূকে হত্যার দায়ে স্বামীসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা ১নং সড়কের ১১৬ নাম্বার বাসার আশিকুর রহমান সুমনের স্ত্রী।

শুক্রবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

নিহত ফাইজার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন জানান, শুক্রবার ফাইজার বাবার বাড়ি থেকে ইফতারি নিয়ে আসার কথা। এ উপলক্ষে শুক্রবার ভোরবেলায় মেহমানদের খাবার-দাবারের আয়োজন চলে। এক পর্যায়ে সকালে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাইজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাটি তারা থানা পুলিশকে জানান।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, একই উপজেলার কুচাই গ্রামের ফারুক আহমদের মেয়ে ফাইজা বেগমের সঙ্গে খোজারখলার সালেক মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনাটির নেপথ্যে কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিহতের বাবা ফারুক আহমদ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও শ্বশুর বাড়ির লোকজন এটাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশের সন্দেহ নববধূ ফাইজাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

নিহত ফাইজার বাবা ফারুক আহমদ জানান, তার মেয়েকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরসালিন বলেন, নিহত নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশিকুর রহমান সুমন, শ্বশুর সালেক মিয়া, ননদ ফাতেমা বেগম ও দেবর মামুন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে পরিদর্শক শামীমুর রহমান পীরের নেতৃত্বে সিআইডি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। নববধূকে হত্যা করে মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে প্রাথমিকভাবে এমনটি নিশ্চিত হন তারা।

ঢাকা, ১৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ