ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪) গেট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

পানি বাড়ায় নীলফামারীর জলঢাকা ও ডিমলা তিস্তা নদী সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের ঘড়-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, অব্যাহত ভারি বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বুধবার সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ১০ ও সকাল ৯টায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পানি বাড়ায় তিস্তা নদী সংলগ্ন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় গ্রামের ৪০টি পরিবার, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার শৌলমারি ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম হাঁটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর পানি আবারও বেড়েছে। ফলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর ও পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

খালিশাচাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান, কয়েকদিন থেকেই তিস্তা নদী সংলগ্ন তার ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামের বেশ কিছু পরিবার কোমর পানির নিচে বসবাস করছে।

তিস্তা সংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারিভাবে অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলেও জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ