একাত্তরের ২১ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের ৫ বাসিন্দাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক হানাদাররা। তাদের কবরে নির্মিত হয়েছে শহীদ স্মৃতিসৌধ। কিন্তু আজও পরিবারগুলো কোনো স্বীকৃতি পায়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে এসে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি চান তারা।
নিহতর স্বজনরা জানান, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে সাইকেল চড়ে বের হন যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে সাহাবুদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস ও শফিউদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস, তাদের ভাইপো জহুরুল ইসলাম বিশ্বাস, একই গ্রামের হাশেম মোল্যার ছেলে ইজ্জেত আলী মোল্যা ও ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবুল হোসেন সরদার।
শহরতলী খয়েরতলা হর্টিকালচার সেন্টারের কাছে আসলে তাদেরকে ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। এরপর তাদেরকে দিয়ে হর্টিকালচার সেন্টারের মধ্যে কবর খুঁড়ে গুলি করে হত্যা করে এবং লাশ মাটিচাপা দেয়। এদের সঙ্গে আরও একজন যুবক ধরা পড়লেও সে কৌশলে পালিয়ে এসে গ্রামে খবর দিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, তার বাবা ইজ্জেত আলীকে পাক বাহিনীরা ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে হানাদারদের হাতে নির্মমভাবে ডাকাতিয়ায় যে ৫ জন নিহত হয় তার মধ্যে তার বাবাও ছিলেন। তার বাবা শহীদ হবার পর তাদের পরিবারকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে পরিবারের সদস্যরা দিনাতিপাত করেছে। তিনিও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান শহীদ পরিবারের।
পাঁচ শহীদের মধ্যে একজন ছিলেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস। তার ছেলে এনামুল হক বিশ্বাস জানান, দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পর এখন তাদের পরিবারের সদস্যরা চান সরকারি স্বীকৃতি। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চান। এজন্য তিনি সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা এদেশের জন্য জীবন দিয়েছে। অথচ আজ আমরা এদেশে অবহেলিত। আমার মা ৪৫ বছর ধরে কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায়। এখন সরকারের সুদৃষ্টি চাই।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রাজেক আহমেদ জানান, মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন, এরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।
এম আর





