খাই একটু? আপনারা খাবেন? ঢেলে দেই? বাংলাদেশের সার্চ ট্রেন্ড বলছে, চলতি মাসের (আগস্ট) ১৮ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত গুগলে ‘ঢেলে দেই’ শব্দ দুটি সার্চ করেছেন প্রায় শতভাগ বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শব্দ দুটি সবচেয়ে ‘জনপ্রিয়’ ও ‘সমালোচিত’।

‘ভাই পরিবেশটা সুন্দর না? কোনো হইচই আছে? আমি কি কাউকে গালি দিয়েছি? কারোর বিরুদ্ধে বলতেছি? এরপরও সকালে একদল লোক বলবে, তাহেরী বালা (ভালো) না।’ আমিতো ভালো না তোরা ভালো লাইয়া থাক।

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। বিচারক আ স ম জগলুল হোসেনের আদালতে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল গত রোববার মামলাটি করেছেন।

এই মামলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তাহেরী। এসময় তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে ছেন বলে জানান।

-: ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আপনি জেনেছেন বিষয়টি?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : না, আমি এই মামলার বিষয়ে এখনো কিছুই শুনিনি।

- : ওয়াজের ভেতরে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। আপনি যে বাক্য বা শব্দগুলো ওয়াজের সময় ব্যবহার করেন এগুলোকে কী আপনি ব্যঙ্গাত্মক মনে করেন?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : ওয়াজের ভেতরে এই শব্দগুলো ব্যবহার করা উচিত না। একটা শব্দ স্লিপ অব ট্যাং হয়ে হয়তো ব্যবহার করে ফেলেছি। আমি হয়তো ঠিক করিনি। তবে যে শব্দগুলো নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে সেগুলো কি ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গের পর্যায়ে পড়ে?

- : ওয়াজের সময় কথাগুলো বলে আপনি কখনো ভেবেছেন যে, এগুলো বলা ঠিক হচ্ছে কি না?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : আমি আসলে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কথাগুলো বলেছি। পোলাপান সামনে ছিল, আমি চা খাচ্ছি। তখন আমি চা ঢেলে দেওয়ার কথা বলেছি। আমি কখনো ভাবিনি এসব ব্যাপার এই পর্যায় পর্যন্ত যাবে। ভাবলে এগুলো কখনো বলতাম না।

-: ওয়াজের প্রেক্ষাপটে বলেন বলে আপনি দাবি করছেন। কিন্তু ‘বসেন বসেন বইসা যান’ বলে বলে যে নাচ-গান করেন, এর কী ব্যাখ্যা দেবেন?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : ওয়াজ করার সময় কেউ কেউ সামনে দাঁড়িয়ে যায়। তখন আমি কথাগুলো মিলিয়ে মিলিয়ে বলেছি।

- : আপনি বলছেন, এগুলো স্লিপ অব ট্যাং বা পরিস্থিতির প্রয়োজনে বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ওয়াজেই কীভাবে স্লিপ অব ট্যাং হয়?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : চা ঢেলে দেওয়ার কথা একদিনই বলেছি মাত্র। অন্যগুলো হয়তো কখনো কখনো বলে ফেলেছি। তবে এখন আর এসব বলি না।

-: এখন আর এসব বলেন না বলছেন আপনি। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন আগের একটি ভিডিওতে দেখলাম, আপনি আপনার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে সুর মিলিয়ে ‘বসেন বসেন’ বলে বলে নাচ-গান করছেন।

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : এখন আর না করার চেষ্টা করি। তবে অনুসারীরা হয়তো এ রকম করতে পারে।

- : তাহলে আপনি খেয়াল করেছেন, আপনার এসব উদ্ভট কথা বা বাক্য অন্যদের ভেতরেও বাজে প্রভাব ফেলছে?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : হ্যাঁ, হয়তো ফেলছে। কিন্তু এখন থেকে আর এসব বলব না বা করব না। আমি ভুল করেছি। তা এখন বুঝতে পারছি।

- : আজ মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে কী বলবেন?

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী : আমি হয়তো আলোচনায় উঠে এসেছি বলে কথাগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তাই মামলাও খেয়েছি। কিন্তু আমি এ রকম শত শত ভিডিও দেখাতে পারব যা কোরআন এবং সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভুল করে অনেকেই অনেক কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হচ্ছে না। এটাই আমার আক্ষেপ। আর এটা হয়তো আমার তকদিরে লেখা ছিল তাই হয়েছে। এটাই আমার জীবনের একটি বাস্তবতা।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জিকিরের সময় নেচে-গেয়ে ‘বসেন বসেন, বইসা যান’ বলায় সমালোচিত হন তাহেরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে তৈরি হয়ে নানা ট্রল ও ভিডিও।

এএস