গত মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বুক ভরা আশা নিয়ে কাউনিয়ার চাষীরা বর্তমানে আলু রোপনে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। চাষীদের পাশাপাশি গৃহিনী-বধুরাও এ কাজে সহায়তা করছে। কোন কোন চাষি বেশি দাম পাওয়ার আশায় ঈদের আগে আগাম আলু রোপন করেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তিস্তা নদী বেষ্ঠিত চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন গ্রামে আগাম জাতের বিনা-৭ ও ব্রি-৩৩ জাতের ধান কাটার পরপরই দ্রুত জমি চাষ-বাস করে আলু রোপন শুরু করেছে কৃষকরা।
নাজিরদহ গ্রামের আলু চাষী মোকছেদুর রহমান ও আঃ আজিজ রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় জানান, গত বছরত আগাম আলু লাগাছনু ,তাত কিছুটা ভাল দাম পাছনু , তাই ওই আশায় এবারো হামরা আগাম গ্রান্যুলা, কুপড়ি, ডায়মন্ড, দেশী জাতের শিলবিলাতী আলু লাগাছি, আল্লায় ভাল জানেন কপালত কি আছে।
তারা আরো জানান, গত মৌসুমে আগাম আলু প্রতি বস্তা ১৭ থেকে ১৮শ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা ৫শ থেকে ৬শ টাকা দরে। এ কারণে আগাম আলু রোপন করছি, ভাল দাম পাওয়ার আশায়।
ঢুসমারা গ্রামের চাষী নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর ৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু রোপন করলেও এবার তিনি সর্বোচ্চ ৬ বিঘা জমিতে আলু চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরো জানান পরপর ৩ বার আলু চাষে করে পুঁজি হারিয়ে ঋণ গ্রস্থ হয়েছি। তাই এবার আলু চাষ করেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চাই।
গত মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি হওয়ায় এবারে এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে চাষিদের মধ্যে আলু চষে ব্যপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বীজ বিক্রেতা তাজরুল ইসলাম জানান এ উপজেলায় আলুর ভাল বীজের বেশ অভাব। খারাপ বীজের কারণে চাষীরা অনেক সময় বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান, এবারে এ উপজেলায় ৪ হাজার ২শ ৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তিস্তা নদীর চরাঞ্চল সহ কিছু কিছু উঁচু জমিতে ইতিমধ্যে আগাম আলু রোপন শেষ হয়েছে। এখন পুরো দমে আলু রোপন শুরু হয়েছে। আলু রোপনের আগে চাষিদের একটু সচেতন হতে হবে, ষ্টোর থেকে আলু এনেই যেন সাথে সাথে না লাগায়, আলুর ঘুম ভাঙ্গার পর জেন লাগায়। তা না হলে আলু পচে যেতে পারে। এ উপজেলায় চর এলাকায় আলুর চাষ বেশী হয়। সব মিলিয়ে কাউনিয়া উপজেলায় আলু রোপন উৎসব শুরু হয়েছে।
জেআই





