বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূয়র (ডব্লিউআরপিও)। সহযোগী হিসেবে অংশ নেয় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, নারী মৈত্রী এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, চেয়ারম্যান, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৬৮% মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। ধূমপানজনিত কারণে হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা। তিনি দ্রুত আইন সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খালেদা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ৩৫.৩% তামাক ব্যবহার করেন। প্রতিদিন গড়ে ৪৪২ জন তামাকজনিত রোগে মারা যান। তিনি আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় সংশোধিত আইন দ্রুত পাশের দাবি জানান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউআরপিও’র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে
১. পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানের নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা
২. বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ
৩. তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ
৪. ই-সিগারেট প্রতিরোধে ব্যবস্থা
৫. খুচরা ও খোলা তামাক বিক্রি বন্ধ
৬. সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার ডলি বলেন, শিশুদের শরীরে নিকোটিনের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভয়াবহ সতর্কবার্তা। আইনের ফাঁক গলে তামাক কোম্পানিগুলোর কৌশল রুখতে হবে।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তরুণরা বলেন, দেশের ৪৯% যুবসমাজকে তামাকের আসক্তি থেকে রক্ষা না করলে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে খুচরা সিগারেট বিক্রি বন্ধ করলে ধূমপানে প্রবেশের প্রবণতা অনেক কমে আসবে।
সমাবেশে প্রজ্ঞা, বিএনটিটিপি, বিসিসিপি, টিসিআরসি, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, এইড ফাউন্ডেশন, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, প্রত্যাশা, পিপিআরসি, মানস, তাবিনাজ, ডাস ও বিটিসিএসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন অংশ নেয়। সবাই সম্মিলিতভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের জোর দাবি জানায়।
এনএইচ