প্রশাসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে শিগগিরই রদবদল হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ জারি হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবে পূর্ত সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মনজুর হোসেনকে স্থানীয় সরকার বিভাগে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ গোলাম রব্বানীকে গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ে বদলি করার কথা বলা হয়েছে। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে বুধবার দুপুরে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সিলগালা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়; কিন্তু রাতেই তা ফাঁস হয়ে যায়। এরপর এ রদবদলের বিষয়ে যাদের আপত্তি ছিল তারা জোর তদবির শুরু করেন। এর মধ্যে একজন সচিব বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের ইনহাউস এক বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের আগাম জানিয়ে দেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ে খুব সম্ভবত এটিই তার শেষ মিটিং। তাকে আজই অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হচ্ছে।’ কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন, বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অনুমোদন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রদবদলের প্রজ্ঞাপন আর জারি হয়নি। তবে এ সপ্তাহে সচিব রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবে কিছু সংশোধনী আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, সচিব রদবদলের সময় সারসংক্ষেপ অনুমোদনের আগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া গোপন রাখার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে। কেননা, যে সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নেবেন তা আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু ও বিব্রতকর। এতে করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু দেখা গেছে, প্রায় প্রতিবারই একই ঘটনা ঘটছে।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের পূর্ত মন্ত্রণালয়ে তিন বছর অনেক আগেই পার হয়েছে। নানা কারণে তিনি নিজেই এ মন্ত্রণালয়ে আর থাকতেও চান না। তাই এ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রদবদল অনেকটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব মনজুর হোসেনের অনেক সুনাম রয়েছে। তিনি এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তাকে পদায়ন করলে সরকার লাভবান হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ কয়েক মাসের মধ্যে অবসরে যাবেন। তিনি একজন শতভাগ পেশাদার আমলা, চাকরি জীবনে তার বিস্তর সুনাম রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না পেলে এ মন্ত্রণালয়ে সরকারের একজন আস্থাভাজন ও দক্ষ সচিব নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন হবে।
ভূমি সচিব মোখলেছুর রহমান অবসরে যাবেন মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী চাকরি জীবনে একজন অভিযোগমুক্ত দক্ষ আমলা। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন। এ সুবাদে শিগগিরই তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। একই ধরনের সুনাম রয়েছে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মুক্তিযোদ্ধা শফিক আলম মেহেদীর। একটি দুর্নীতিবাজ চক্রের রোষানলে পড়ে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছেড়ে ডাম্পিং পোস্টিংয়ে যেতে হয়েছে। এবার এই কর্মকর্তাকেও অপেক্ষাকৃত ভালো মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করার গুঞ্জন রয়েছে।
সব কিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রশাসনে সচিব পর্যায়ে একটি বড় মাপের রদবদল হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি হিসেবে যাদের সততা ও দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই এবং সর্বোপরি যাদের প্রতি সরকারের আস্থার কোনো ঘাটতি নেই তাদেরই পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ১৯৮৪ ব্যাচ থেকেও যদি কাউকে কোথাও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও এ ব্যাচের উপরে থাকা বহু কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী অনেক আগেই সচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে বসে আছেন। কিন্তু প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে সরকার সচিব পদসহ সব গুরুত্বপূর্ণ পদে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, দক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণকারী কর্মকর্তাদের আগে জায়গা করে দিতে চায়। সূত্র: যুগান্তর
[b]ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ
[/b]





