ভয়াবহতা কিংবা বিস্তারের দিক থেকে হেরোইনসহ অন্যান্য মাদককে ছাপিয়ে গেলেও, আইনের ফাঁক দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা পাচারকারীরা। তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে পাচারকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আইন কর্মকর্তার। তবে পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, ইয়াবা'র পাচার রোধে প্রচলিত মাদক আইনকে যুগোপযোগী করা দরকার।

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে, ইয়াবা পাচার চলছে পুরো দেশে। আর এ সুযোগে এ অঞ্চলে ইয়াবার বিস্তার বাড়ছে মারাত্মকভাবে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে ইয়াবা, সাথে পাচারকারীরাও। কিন্তু ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে তারা। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতিকেই দায়ী করছেন এ সরকারি আইন কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট এম এ হাসেম বলেন, 'মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের অধীনে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেয়া অনেকটা বাধ্যতামূলক। এবং এক্ষেত্রে তদন্তকারী দারোগা অভিযোগপত্র দাখিল করতে বিলম্ব করে এবং ইয়াবার ট্যাবলেটের যে পরিমাণটুকু ওনারা লিখে না। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তরা জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে হকদার হয় এবং জামিন পেয়ে যায়।'

তবে, সরকারি আইন কর্মকর্তার অভিযোগ মানতে নারাজ র‍্যাব এর এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তার দাবি নিয়ম মেনেই ইয়াবা আটকের ঘটনায় মাদক আইনে মামলা হচ্ছে।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ওজন কত আসলো সেটার উপরও দেয়া হয়। সম্ভবত এই ওজনের উপর ভিত্তি করেই তারা জামিনের বিষয়টি দেখেন।'

যেহেতু আইনগত জটিলতার কারণেই ইয়াবা পাচারকারীরা রেহাই পাচ্ছে, এক্ষেত্রে বিদ্যমান মাদক আইনকে আরো যুগোপযোগী করার দাবি পুলিশ ও র‍্যাবের।

সিএমপি'র উপ-কমিশনার (বন্দর) হারুনুর রশীদ হাজারী বলেন, 'যেহেতু জামিন হয়ে যাচ্ছে এবং ঘুরেফিরে তারাই আবার এই পেশাতে ফিরে আসছে, বিভিন্ন কারণে এই মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ছে সেক্ষেত্রে এই আইনের কাঠামোর একটু সংস্কার দরকার।'

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ইয়াবা সহ ধরা পড়লে এবং একটা পরিমাণের বেশি হলে এটা জামিন অযোগ্য করা উচিত এবং পরিমাণ বেশি হলে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা উচিত।'

গত এক বছরে প্রায় ২২ লাখ পিস ইয়াবাসসহ অন্তত শীর্ষ স্থানীয় ৬০ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবশেষ গত ৩ অক্টোবর প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। যা স্থলভাগে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার দ্বিতীয় বৃহত্তম চালান।

জেআই