ময়মনসিংহের ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুকুলের বিএনপি-জামায়াত কানেকশন ছিল আলোচিত।
আর তার পুত্র খন্দকার মসিউর রহমান শাহানশাহ হেঁটেছেন বাবা’র উল্টো পথে। রীতিমতো ডিগবাজি খেয়ে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন।
শাসক দলের প্রভাবশালী এক নেতার শেল্টারে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন।
স্কুল ভাংচুর, জমি দখল থেকে শুরু করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। একটি মামলায় রহস্যজনক কারণে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে দেখিয়েছে ‘পলাতক’ আসামি হিসেবে। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে তিনি দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে রাজ্যের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনমনে।
অভিযোগে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ জুন ঘুষের বিনিময়ে বিদ্রোহী কবির স্মৃতিধন্য স্থানীয় কাজীর শিমলা নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে শূন্য পদে জোরপূর্বক শিক্ষক নিয়োগ দিতে এসে স্থানীয় সন্ত্রাসী শাহানশাহ’র নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ভুন্ডল করে দেয়।
ওই সময় শাহানশাহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা ছুড়ে ফেলে দিয়ে অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় ওইদিনই বিদ্যালয়ে সভাপতি আব্দুস ছামাদ ৯ জনকে আসামী করে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করে।
কিন্তু পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়ে গত ২৫ জুন সন্ত্রাসী শাহানশাহ’কে প্রধান অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক ওই অভিযোগপত্রে শাহনশাহ’কে পলাতক উলেখ করলেও বাস্তবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ বাদী আব্দুস ছামাদের।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। পুলিশের কাছে জানতে চাইলে তারা বলছে আসামীরা পলাতক। মূলত পুলিশেরে সাথে আসামীদের গোপন সমঝোতা রয়েছে।
এ মামলার বাদী শাহানশাহকে পুলিশের ‘পলাতক’ দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে স¤প্রতি তোলা একটি ছবিও সরবরাহ করেন।
সেই ছবিতে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই নিজস্ব বাহিনী নিয়ে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে দাঁড়িয়ে আছেন শাহানশাহ। কিন্তু পুলিশের ছড়িয়ে দেয়া এমন কথাবার্তায় ক্ষুব্ধ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শাহানশাহ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে আমার জানা নেই। গোপনে এলাকায় আসলে আসতেও পারে। তবে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী’র অভিযোগ, এলাকায় জমি জিরাত নিয়েই বেশিরভাগ গন্ডগোল পাঁকাচ্ছেন শাহানশাহ। তার রয়েছে নিজস্ব বাহিনী।
এ বাহিনী যে কাউকে টার্গেট করে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার শেল্টার থাকায় পুলিশও তাকে সমঝে চলে।
এসএইচ





