কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানায় অভিযান চালিয়ে শিশু অপহরণের দায়ে তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় অপহৃত শিশু ইমতিয়াজুর রহমান সাজ্জাদকে (৯) উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দুদু মিয়া (২৬), খুইল্লা মিয়া (৩৫), আবুল হাসেম (২৫)। এদের প্রত্যেকের বাড়ি মায়ানমারের আকিয়াব প্রদেশের মংডুতে বলে জানা যায়।
বুধবার দুপুরে নগরীর ষোলশহরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার।
তিনি জানান, গত ১৩ অক্টোবর সাতকানিয়ার রসুলাবাদ চৌধুরী পাড়ার বাসা থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওসমানের শিশু পুত্র ইমতিয়াজুর রহমানকে ফুসলিয়ে বের করে নিয়ে যায় কাজের লোক নুর আলম। ইমতিয়াজকে কক্সবাজারের উখিয়ায় নিয়ে গিয়ে মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী চক্র।
বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও আরও টাকা দাবি করে তারা। মুক্তিপণ না পেলে শিশু ইমতিয়াজকে মায়ানমারে নিয়ে বিক্রি করে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে অপহৃত শিশু উদ্ধারে তৎপরতা চালায় পুলিশ। মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শিশু ইমতিয়াজকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অপহরণের যুক্ত মায়ানমারের তিন নাগরিককেও আটক করা হয়।
হাফিজ আক্তার জানান, রোযার ঈদের পর থেকে নুর আলম নামে এক রোহিঙ্গা শিশু ইমতিয়াজের বাবার মাছের প্রজেক্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল।
গত ১৩ অক্টোবর ইমতিয়াজের চাচী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিবারের সবাই সেদিকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ওইদিন বাসায় ইমতিয়াজ তার ফুফুর সঙ্গে ছিল। সে বাইরে খেলতে গেলে শ্রমিক নুর আলম তাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে যায়। বিকেলে ইমতিয়াজকে বাসায় না পেয়ে তার বাবা বিষয়টি সাতকানিয়া থানায় অবহিত করেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজার নেয়ার পর নুর আলম তার ভাই দুদু মিয়ার বাড়িতে ইমতিয়াজকে রাখে। এরপর তারা চক্রের আরেক সদস্য আবুল হাশেমের মোবাইল থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় ইমতিয়াজের বাবা বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপর আরও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এদিকে অপহরণকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ।
পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি বুঝতে পেরে বারবার ইমতিয়াজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে অপহরণকারীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইমতিয়াজকে মায়ানমার নিয়ে যায় তারা। নাইখমছড়ি থানাধীন তমব্রু’র নিকটবর্তী মায়ানমার সীমান্তে আটকে রাখে। স্থানীয়দের সহায়তায় মায়ানমার সীমান্ত থেকে কৌশলে ইমতিয়াজকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এসময় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারলেও অপহরণের মূলহোতা নুর আলমকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, মায়ানমারের নাগরিকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট ঠিকানা না থাকায় অপরাধ করে পাড় পেয়ে যাচ্ছে তারা। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য মোবাইলের সিম নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এমএ





