‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সঙ্গে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের কোনো সংযোগ নেই। আমাদের সন্ত্রাসীরা দেশের অভ্যন্তরেই তৈরি এবং কার্যক্রমও দেশের মধ্যেই।’
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী পদ মর্যাদার দুইজনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এসিস্ট্যান্ড সেক্রেটারি মি. এলেন বার্সিন ও আন্ডার সেক্রেটারি শাঁ শাঁ ও ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধি দল জানতে চান আমাদের দেশে কীভাবে টেরোরিজম (সন্ত্রাসবাদ) মোকাবেলা করছি। আমরা যে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট করেছি সেটার অগ্রগতি এবং এক্ষেত্রে হিউম্যান রাইটস রক্ষায় তা অন্তরায় কিনা। আমরা তাদের বলেছি, কাউন্টার টেরোরিজমের জন্য আমরা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন করেছি। সাইবার ক্রাইম প্রতিহত করার জন্য আমরা সাইবার ক্রাইম ইউনিট করেছি। আমরা বলেছি, এ ব্যাপারে আমরা একেবারেই নতুন। এসব বিষয়ে শেয়ারিংয়ের প্রয়োজন আছে। আমাদের অফিসারদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলেছি তাদের।’
কামাল বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস নিশ্চিত হচ্ছে কিনা জানতে তারা চাইলে আমরা তাদের বলেছি যে, এসব কিছু ফলো করেই আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি। গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিট পুলিশ করেছি। আমরা সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রত্যেক ধর্মের লিডারদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এক প্লাটফরমে নিয়ে এসে কাজ করছি। আমরা তাদের আরো বলেছি, আমাদের দেশ অত্যন্ত ভাতৃত্ববোধে আবদ্ধ। এরা এক্সট্রিমিস্ট ও টেররিস্টদের পছন্দ করেন না। যার কারণে আমরা টেররিস্টদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি-আমাদের টেরোরিজম বা টেরোররিস্টদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কারণ, আমাদের মানুষ টেরোরিস্ট পছন্দ করেন না। আমি এও বলেছি, ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্টদের সঙ্গে আমাদের দেশের কোনো লিঙ্ক নেই। আমাদের টেররিস্টরা হোম বেইজড।’
কিন্তু, আমেরিকা তো বার বার বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে এলার্ট জারি করছে-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা তো অনেক কিছুই বলে। আমরা আমাদের ভুমিকা ক্লিয়ার করে দিয়েছি। আমাদের এখানে যত টেরোরিস্ট আছে, তারা সবাই হোম বাউন্ড (অভ্যন্তরীণ)। এরা আমাদের দেশেরই তৈরি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক আড়ালে আবডালে কখনো বা ধর্মীয় উন্মাদনায় সামনে আসে। কিন্তু, আমরা এদের কন্ট্রোল করতে সক্ষম হয়েছি।’
মার্কিন এ প্রতিনিধি দলের আগে সেদেশের ইমিগ্রেশনের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে যে প্রতিনিধি দল এসেছিল তারা বলেছেন যে আমেরিকায় বিভিন্ন দেশের ই-লিগ্যাল ইমিগ্রান্ট আছে, তাদের তারা ফেরত পাঠাচ্ছে। আমাদেরও কয়েকজন ই-লিগ্যাল ইমিগ্রান্ট তাদের দেশে আছে, তাদের তারা ফেরত পাঠোবেন।’
আমেরিকায় অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা কতজন জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এ সংখ্যা ৩০ জন বলে জানিয়েছে। এরা লিগ্যাল ইমিগ্রান্ট হিসেবে প্রমাণ করতে পারেনি। এরপরেও আমরা বলেছি তারা যে বাংলাদেশি তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে কীভাবে ফেরত পাঠাচ্ছে এগুলো জানাতে হবে।’
এআইজে





