সুন্দরবনের কাছে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আগে সুন্দর বনের পরিবেশ রক্ষার জন্য বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ (ইআইএ) পরিসংখ্যানের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সাউথ এশিয়া ফর হিউম্যান রাইস আয়োজিত ‘ফ্যাট ফাইনডিং মিশন টু রামপাল' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
সুলতানা কামাল বলেন, আমরা প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রিরোধীতা করি না, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। তবে সেটা রামপালে না হয়ে পরিবেশের উপর প্রভাব পড়ে না এমন কোন জায়গায় স্থাপন করা যেতে পারে। এজন্য সরকারকে বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন (ইআইএ) পরিসংখ্যান করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান নির্বাচন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জনসাধারণের মতামত নিয়ে এ বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনগণের চূড়ান্ত মতামতের আগে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সব কাজ বন্ধের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২৭০ মিটার উচ্চতার চিমনী ধোয়ায় কোনো ক্ষতি হবে না বলা হচ্ছে। অথচ সাইক্লোন ও টরনেডো কালে বাতাসের গতি যে কোনো দিকে হতে পারে। সে সময় এবং শীতকালে যখন কেন্দ্র থেকে বনের দিনে অনবরত প্রচুর ধোয়া প্রবাহিত হবে তখন অবশ্যই সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। এছাড়া আকরাম পয়েন্টে যে কয়লার বড় নৌযান থেকে ছোট নৌযানে স্থানান্তরিত করা হবে তাতে সুন্দরবনের বন এবং পশু-প্রাণীর কি ক্ষতি হবে তা বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়নি।
তিনি বলেন, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে গত ২১ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তিতে সইঁ করে বাংলাদেশ সরকার। তবে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন পরিবেশবীদ, বিশেষজ্ঞ ও রামপালের স্থানীয় বাসিন্দারা।
তিনি আরো বলেন, যারা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বিরোধীতা করছে তাদের বিরোদ্ধে মামলা হামলা করা হচ্ছে। আমরা এই সব বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী, সাউথ এশিয়া ফর হিউম্যান রাইটসের সদস্য খুশি কবির প্রমুখ।
এমএ/এমকে





