পাঁচ দফা দাবিতে ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণসহ পাঁচ দফা দাবি আদায় না হলে ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) বর্জনেরও হুমকি দেন তারা।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ সব কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক নেতারা।
প্রধান শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবি হল— প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণ করে প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের নামে গেজেট প্রকাশ, প্রধান শিক্ষকদের সেলফ ড্রয়িং কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা দেওয়াসহ প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় টাইম স্কেলপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অনুরূপ স্কেলে বেতন স্থায়ীকরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি, নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে যোগ্যতা ও বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিধান চালু, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত বিভাগীয় নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত এবং অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কাইছারুল আলম বলেন, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। একই দিন পদমর্যাদা উন্নীতের আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণমিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও পদমর্যাদা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী দশম গ্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বাই নেমে গেজেট প্রকাশ না করায় বেতন ফিক্সেশন ও বেতন দিতে পারছে না হিসাবরক্ষণ অফিস।
তিনি আরও বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করলে মুনাফা পাওয়া যায় ৩৫ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করলে মুনাফা পাওয়া যায় নয় শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ করলে মুনাফা পাওয়া যায় ১১ শতাংশ। সুতরাং প্রাথমিক শিক্ষা বাদ দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি কল্পনা করা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করে শীঘ্রই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি মেনে না নিলে ১ অক্টোর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের চেয়ার বর্জন, ৩ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। এরপরও দাবি না মানলে ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে রণজিৎ ভট্টাচার্য, নিপক কুমার লাল, রফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী, কৃষ্ণা দাশগুপ্তা, নুরুল হুদা, রিংকু দাশ, ফয়েজুল ইসলাম, অসীম দেবনাথ, তসলিম উদ্দিন, কছির উদ্দিন, এস এম আতিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন, আনিস, জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া, সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ





