১০৭ উপজেলায় চলছে চতুর্থ ধাপের পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন। এর আগে এক প্রকার ভোটার ছাড়া আরো তিন ধাপের নির্বাচন। ফাঁকা ভোটকেন্দ্রগুলো শুধু কুকুর আর ছাগলের আনাগোনায় পরিপূর্ণ ছিল। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পুরো ভোটের সময়টা কাটিয়েছে হেলে দুলে।
গতানুগতিক তিন ধাপের মতো চতুর্থ ধাপের নির্বাচনেও একই দশা ভোট কেন্দ্রগুলোতে। দিনে ভোটের অভাব দেখা যায় তাই রাতের বেলায় ব্যালটে সিল মারার চেষ্টা হয়েছিল অনেক কেন্দ্রে। এই অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য ভোটারদেরকে মসজিদের মাইকে আহবান জানানো হয়।
যশোর:
যশোরের ৮টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে আজ সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি প্রায় শুন্যের কোঠায়।
শহরের জিলা স্কুল, আশ্রম সরকারী প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র, যশোর ইন্সটিটিউট স্কুল কেন্দ্র, বাহাদুরপুর স্কুল কেন্দ্র, মাহামুদুর রহমান স্কুল কেন্দ্র, বিএড কলেজ কেন্দ্র, সেবাসংঘ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এই সমেয় কোন কোন কেন্দ্রে ৩-৪টির বেশি ভোট পড়েনি বলে জানান ভোটার সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
বুথের বাইরে নিরাপত্তা কর্মীরাও বসে আছেন অসলভাবে। ভোট কেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমানার বাইরেও কোন লোকজনের আনাগোনা নেই। স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে না এসব কেন্দ্রে আজ ভোট গ্রহণ চলছে।
এবিষয়ে যশোর জিলা স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আজিজুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ৩ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার। রাম কৃষ্ণ আশ্রম স্কুল কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ৩৮শ’। সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট কাষ্ট হয়েছে মাত্র ২২টি। একই অবস্থা শহরের বাকি কেন্দ্র গুলোতেই। জেলার বাকি উপজেলা গুলোর চিত্রও একই রকম বলে জানান ভোট সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের প্রতি সাধারণ ভোটারদের কোন আগ্রহ নেই। ফলে তারা ভোট কেন্দ্রে আসছেন না। ভোট দিচ্ছেন না। ভোটার না আসলে তো আমাদের কিছু করার নেই।
মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জে ছয় উপজেলার ৪৯৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলা শহরের একটি কেন্দ্রের মোট বুথ ৬টি, সকাল ৮টা থেকে ১০টায় দুই ঘণ্টায় দুটি বুথে কোনো ভোট পড়েনি। বাকি চারটিতে ভোট পড়েছে পাঁচটি।
রোববার সকাল ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর বড় মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।

সকাল থেকেই এসব কেন্দ্রের অধিকাংশই রয়েছে ভোটারশূন্য। শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর বড় মাদ্রাসা কেন্দ্রে দেখা যায়, দুই হাজার ৭৬ ভোটার থাকলেও কেন্দ্রটি পুরো ফাঁকা।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার মাহবুবুল হক আল কমর জানান, কেন্দ্রটিতে মোট বুথ ছয়টি, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় দুটি বুথে কোনো ভোট পড়েনি। বাকি চারটিতে ভোট পড়েছে ৫টি।
মুন্সীগঞ্জ শহরের যোগীনঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লের প্রিসাইডিং অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রটিতে রয়েছে মোট দুই হাজার ৬৬ ভোটার। সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি কম।
তবে কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে লাইনে দাঁড়ান নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। তাদের প্রায় সবার গলায় নৌকার প্ল্যাকার্ড ঝুলতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সব কেন্দ্রই ভোটারশূন্য।
৬ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৯ প্রার্থী।
জেলা নির্বাচন অফিস তথ্যমতে, জেলায় এবার ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩ জন ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৪ জন।
টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১২০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশই ভোটারশূন্য দেখা গেছে। কেন্দ্রের বাহিরে ও ভেতরে ভোটার দেখা যাচ্ছে না।
রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উপজেলা সদরের মির্জাপুর এসকে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পুষ্টকামুরী আলহাজ শফিউদ্দিন মিঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র, বাওয়ার কুমারজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

একই অবস্থা উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও আজগানা ইউনিয়নের অধীনে ১২০টি ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য। সকাল থেকে এখানে অলস সময় কাটাচ্ছেন পোলিং এজেন্টরা।
মির্জাপুর থানার ওসি একেএম মিজচানুল হক জানান, ১২০ কেন্দ্রের মধ্যে ৭০ কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৫০০ পুলিশ বাহিনী, ১৫০০ আনসার, ৪০ বিজিবি সদস্য ও স্টাইকিং ফোর্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহণের লক্ষ্যে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের ১২০টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ১২৬ প্রিসাইডিং অফিসার, ৭৮৯ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ৬৭০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জাপুর এসকে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিসাইডিং অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটার তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের সব প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহণের লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রকার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ফেনী:
ফেনী জেলার চারটি উপজেলায় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রবিবার (৩১ মার্চ) চুতর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে চলছে ইভিএমে ভোটগ্রহণ। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফেনী শহরে ও তার আশপাশের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া কেউ নেই। এমনকি নৌকা ছাড়া অন্য প্রার্থীদের এজেন্টও খুঁজে পাওয়া যায়নি এসব ভোটকেন্দ্রে। এসব ফাঁকা কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিতরা খোশগল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।

ফেনী শহরের আলীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এই কেন্দ্রের মাঠ পুরোটাই ফাঁকা। দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে ভোটার না থাকায় অলস সময় পার করছেন। কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের পর দেখা গেল মাদ্রাসায় বিভিন্ন কক্ষে সাতটি বুথ। শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটারের ভোটকেন্দ্র এটি। এখানকার মোট ভোটার দুই হাজার ৭১০ জন।তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৬১টি।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়তে পারে।’
ফেনী সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩০টি। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও কম। ওই কেন্দ্রে তিন নম্বর বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হারাধন বর্মন জানান, ‘সকাল থেকে এই পর্যন্ত কেবল একজন ভোটার ভোট দিয়েছেন।’
এই স্কুলে আরেকটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দিদোয়ানুল কবির জানান, তার কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৩১৫ জন। সবাই পুরুষ ভোটার। বেলা সোয়া এগারটা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৭০টি।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আনোয়ারুল বলেন,‘ কেন্দ্রে ভোটার নাই, বসে থেকে কাজ নাই। ভোটার না থাকায় অলস সময় পার করছি আমরা।’
জেড





