পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা না থাকায়, বাজারজাতকরণ সমস্যা ও হিমাগারের অভাবে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের ৭ উপজেলায় উৎপাদিত কলা ও আনারসের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। এর ওপর রয়েছে ফড়িয়াদের ব্যবসায়িক কূটকৌশল। তবু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী চাষীরা থেমে নেই তাদের ক্ষেত থেকে আনারস সংগ্রহের কাজে। বর্ষার এ সময় ক্ষেতে দ্রুত পাকা শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের আনারস।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ফলজপণ্য, বিশেষ করে বর্ষায় বেশি উৎপাদিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ আনারস ও কলা সংরক্ষণের অভাবে নানাস্থানে পঁচে যায়। প্রত্যেক বছরই জেলায় কমপক্ষে ২কোটি টাকা মূল্যের আনারস ও কলা নষ্ট হয় বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তবে জেলায় উৎপাদিত হয় বছরে কমপক্ষে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মেট্টিক টন আনারস ও কলা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম জানান, জেলায় গত মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮১৮ মেট্টিক টন বিভিন্ন জাতের কলা। একই সময়ে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৯০৪ মেট্টিক টন বিভিন্ন জাতের আনারস।
জেলায় আনারস ও কলা ছাড়াও কমলা, কাঁঠাল, নানা জাতের আম এবং উন্নতজাতের পেঁপের বিপুল পরিমাণের আবাদ রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় ২ হাজার ৪শ’হেক্টর জমির পেঁপে বাগানে প্রতিবছর ৪৫ হাজার ৬শ’মেট্টিক টন পেঁপে উৎপাদন হয়। ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে প্রতি বছর ৯৫ হাজার ২শ’মেট্টিকটন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে প্রতি বছর উৎপাদিত হয় ৩৫ হাজার ৭৫০ মেট্টিক টন বিভিন্ন জাতের আম। জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ৭শ’হেক্টর জমিতে কমলা উৎপাদন হয় ১৭ হাজার ৫শ’মেট্টিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চ মহলে জানানো হয়েছে ফলজপণ্য সংরক্ষণ এবং চাষীদের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিতকরণে হিমাগার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। কিন্তু এখনও জেলায় হিমাগার গড়ে উঠেনি। তবে চাষীরা ন্যায্য মুল্য পাওযার স্বার্থে তাদের উৎপাদিত কলা ও আনারস সরাসরি বান্দরবানের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে থাকে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ মো. আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, জেলার মটি ও আবহাওয়া ফলজপণ্য উৎপাদনে খুবই উপযোগী। চাষীরাও ক্রমশ ঝুঁকছেন ফলদ উৎপাদনের দিকে।
ঢাকা, ২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





