একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে ৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সোমবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা ছুটে যান স্ব-স্ব এলাকায় নামেন প্রচারণায়।
প্রতীকের পাশাপাশি তাদের মাঝে নির্বাচনী আচরণ বিধির তালিকাও তুলে দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।
দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সংসদীয় এলাকায় গণসংযোগ-বৈঠকে নিজ মার্কার প্রতি ভোট চান তারা। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১টি সংসদীয় আসনের সবখানেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ, বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। প্রচারণায় সরগরম শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের জনপদ।
কুমিল্লা মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতীক পাওয়ার পর জেলার প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
প্রতীক বরাদ্দের সময় কুমিল্লা-৬ (সদর-মহানগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ছাড়া বিএনপি-আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থীই আসেননি। তাদের পক্ষে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক ধানের শীষ-নৌকা গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দের পর স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ২৪টি সংরক্ষিত প্রতীকের মধ্যে তাদের পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার কুমিল্লার ১১টি আসনে প্রার্থীতায় আছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে ৮৪ জন। এর মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ৮ জন, কুমিল্লা-২ আসনে ৮ জন, কুমিল্লা-৩ আসনে ১৫, কুমিল্লা-৪ আসনে ৬ জন, কুমিল্লা-৫ আসনে ৭ জন, কুমিল্লা-৬ আসনে ৪ জন, কুমিল্লা-৭ আসনে ৮ জন, কুমিল্লা-৮ আসনে ৯ জন, কুমিল্লা-৯ আসনে ৭ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৭ জন এবং কুমিল্লা-১১ আসনে ৪ জন প্রার্থী।
প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীর বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও আচরণ বিধিমালা তুলে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, সকলেই বিধিমালা মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন।
এদিকে প্রতীক পেয়েই কুমিল্লার ১১টি আসনের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক শো-ডাউন করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এসব শো-ডাউনে দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক জোটের পক্ষেই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন ওই আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। বিকাল ৪টায় চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় বক্তব্যকালে মুজিবুল হক বলেন, মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার মতো কোনো প্রকার অর্জন জামায়াত-বিএনপির নেই। এরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এই চৌদ্দগ্রামেও একজন জামায়াতের নেতা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে এসেছেন। অতীতে তিনি চৌদ্দগ্রামের মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু কোনো উন্নয়ন করেননি বরং ধোঁকাবাজি করেছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চৌদ্দগ্রামে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে- তা চৌদ্দগ্রামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে আবারো নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।
এছাড়াও কুমিল্লা-৬ (সদর-মহানগর) আসনের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সমর্থনে মিছিল হয়েছে।
সোমবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিনে কুমিল্লার দাউদকান্দি ঈদগাহ্ ময়দানে স্মরণকালের এক বিশাল বের করে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ।





