অবশেষে রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার চালু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন।

ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল জানান, প্রকল্পের সব কাজ মোটামুটি শেষ। প্রকল্প এলাকার রাস্তাগুলোর কার্পেটিংয়ের কাজও প্রায় শেষ। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পরপরই ফ্লাইওভারটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এদিকে, ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের জন্য সাজানো হয়েছে। পুরো ফ্লাইওভার বিভিন্ন রং এর লাইটিং করা হয়েছে। শোভা পাচ্ছে রং বেরং এর পতাকা। এটিই বোধ হয় দেশের প্রথম ফ্লাইওভার যেখানে ট্রাফিক সিগনাল বাতি রয়েছে। অর্থাৎ ফ্লাইওভারে গিয়েও মাঝখানে সিগনালের অপেক্ষা থাকা লাগতে পারে।

ফ্লাইওভারটি উন্মুক্ত করা হলে মৌচাক, মালিবাগ, বাংলামোটর, রাজারবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার এলাকার যানজট অনেকটাই কমে যাবে। 

জানা যায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার গভীর।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৯ কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির কাজ তিন ভাগে করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জারিফ