টাঙ্গাইলে জেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথীরানী পালের (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় তার প্রতারক প্রেমিক মাধব চন্দ্র পালেরফাঁসির দাবি করেছেন বিথীর সহপাঠি ও এলাকাবাসী।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে করা এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে বিথীর সহপাঠিরা অবিলম্বে মাধবসিহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ওদৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানায়। এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পরেতারা।

এতে বক্তব্য দেন- টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সাধরণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাফরআহমেদ, যুবনেতা আনিছুর রহমান, বিথীর সহপাঠি সঞ্চিতা প্রমুখ। পরে জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয় তারা।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় এনায়েতপুরের সত্য রঞ্জন পালের মেয়ে বিথীরানী পাল টাঙ্গাইল জেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রীছিল। দেড় বছর আগে তার সাথে একই এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে মাধব পালের (২৬) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক হয়।

পরে বিথী মাধবকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতিজানায়। এই অভিমানে গত ১৫ মে সন্ধ্যায় বিথী ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খায়। পরেতাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সে সুস্থ হয়।

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার ও মাধবের প্রেম এবং শারিরীকসম্পর্কের কথা সবাইকে জানায়। ১৮ মে বিথীদের বাড়িতে এ ব্যাপারে সালিশি বৈঠকহয়।

এতেমাধবের পক্ষে সুশীল পাল, দেবাশীষ পাল, আলো রানী পাল, মনোরঞ্জন পাল, ধীরেনপাল, মদন পাল, কালিপদ পাল, দুখীরাম পাল, উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে তারা বিয়েতেঅস্বীকৃতি জানায়। পরে উভয় পক্ষ আলোচনা করে বিয়ে দিতে রাজি হয়। ২৫ মে তাদেরবিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠক শেষ হয়।

এদিকে ১৯ মে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাধব তার মুঠোফোন থেকে বিথীর মায়েরনম্বরে ফোন করে বিথীকে জানায়, তারা চক্রান্ত করে বিয়ের শর্তে রাজি হয়েছে।বিয়ের পর তারা বিথীকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। সে বলেছে, তুই আমাকে বিয়েকরার চেয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়া আত্মহত্যা কর, সেটাও ভালো হবে।’ বিথী এসব কথা তারমাকে বলে কাঁদতে কাঁদতে তার ঘরে চলে যায়।

পরদিন সকাল ১১টার দিকে বিথীর মা তার ঘরে গিয়ে দরজা আটকানো দেখে ডাকাডাকিকরে। সে দরজা না খোলায় সেটি ভেঙে ভেতরে গিয়ে ঘরের ধর্নার সাথে গলায় ওড়নাপেঁচানো বিথীর লাশ দেখতে পান।

এই ঘটনার পর বিথীর বাবা সত্যরঞ্জন পাল বাদী হয়ে মাধব পাল ও তারসহযোগীদের বিবাদী করে ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় টাঙ্গাইল মডেল থানায়আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে মামলা করেন।

জেআই