বগুড়ার সোনাতলায় শনিবার ভোর রাতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে সোনাতলা মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক কোয়ার্টারের ২টি ভবন পুড়ে গেছে। এতে করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

এ ছাড়াও ওই কোয়ার্টারে থাকা চলতি বছরের জুনিয়র মাদরাসা সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ১৪৫১ উত্তরপত্র অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে। ওই দুটি কোয়ার্টারে বসবাসকারী ২ জন স্কুল শিক্ষকের পরিবারের ১১ জন সদস্য শুধুমাত্র জীবন নিয়ে কোয়ার্টার থেকে বের হতে পারলেও তাদের সব আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।সোনাতলা মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের নিজস্ব ও সরকারি অর্থায়নে ২০১৩ সালে নতুন ৩টি কোয়ার্টার প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। সেই ৩টি কোয়ার্টারের একটিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মো. মতিয়ার রহমান তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। অন্য ২টিতে প্রতিষ্ঠানের কৃষি শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম এবং অন্যটিতে ধর্মীয় শিক্ষক ফারহানা বেগম তার পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন।

শনিবার ভোর রাতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে রফিকুল ইসলামের কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। নিমিষেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ২টি কোয়ার্টারে। এ সময় ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠলে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আগুনের আঁচ টের পান। তিনি চিৎকার দিয়ে তার কোয়ার্টারে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী শিরিন আকতার, ৩ কন্যা সুমাইয়া আফরিন শাম্মী, ইশাত, ফারিহা ও বৃদ্ধা মাতা লাইলী বেগম (৭৫) কে জাগিয়ে কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে জীবন রক্ষা করেন।

রফিকুল ইসলাম জানান, তার কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ডে নগদ লক্ষাধিক টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২টি ফ্রিজ, ১টি কালার টিভি, আসবাবপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এতে করে তার প্রায় ১৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

পাশের কোয়ার্টারে অবস্থানকারী ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা) ফারহানা বেগমের কোয়ার্টারে ১টি ফ্রিজ, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে গেছে।এ সময় ওই কোয়ার্টারে রাখা তার স্বামীর বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিহিগ্রাম এডিইউ সেন্ট্রাল ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসার গণিত বিষয়ের প্রভাষক ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের জেডিসি পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক কোড-নং-৩৫১৮ এর বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি (১৪০) বিষয়ের ১৪৫১টি উত্তরপত্র অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষক নজমুল হক জানান, ইতিপূর্বেই ওই উত্তরপত্রগুলোর মাঝের অংশ (নম্বরপত্র) বোর্ডে পাঠিয়েছি। এতে করে শিক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

এ ব্যাপারে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, ভোর ৪টার দিকে তিনি ঘুম থেকে ঝড়-বৃষ্টির মতো শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে অগ্নিকাণ্ড দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন।

এ সময় আশপাশের কোয়ার্টার থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। এ ছাড়াও তিনি ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। অগ্নিকাণ্ডে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান অগ্নিকাণ্ডে ওই কোয়ার্টারে থাকা জেডিসি পরীক্ষার ১৪৫১ উত্তরপত্র পুড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

সোনাতলা ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার মো. আকবর আলী জানান, ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গাড়ি ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাঠিয়ে দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ইআর