প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- যারা আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছে, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এমনকি যারা বোমাবাজদের অর্থের জোগান দিচ্ছেন, তাদেরকেও খুঁজে বের করা হবে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আহত প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এই অনুদান দেওয়া হয়।
বিএনপি নেত্রীর কর্মকাণ্ড ও কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব গণমাধ্যম এইসব হত্যাকারীদের কাভারেজ দিচ্ছেন, তাদেরকেও বলি, একটু কাভারেজ কম দেন। জল্লাদের কাভারেজ (প্রচার) বন্ধ করেন। জল্লাদের খবর প্রচার না করাই ভালো। এদের খবর প্রচার না হলে টেলিভিশন কি চলবে না? সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জঙ্গীদের সংবাদ প্রচার করবেন না। বেসরকারি টিভি কে দিয়েছে, আমি দিয়েছি। জঙ্গীদের প্রচারনা বন্ধ করেন, সব বন্ধ হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিদের যেভাবে বিচার হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সেভাবেই বিচার হবে। সেভাবেই তাকে শাস্তি পেতে হবে। জামায়াত-বিএনপি এরা জঙ্গি। এদের থামাতে সরকার যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততটাই কঠোর হবে।
দেশব্যাপী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের নামে চলমান সহিংসতা ও পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের দেখতে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রীকে মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স কেউ দেয়নি। দুই বছরের শিশুর ওপরও বোমা হামলা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আর তিনি গুলশানে আরাম আয়েশে থেকে মানুষ পোড়ানোর হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। এটা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জঙ্গিবাদের শাস্তি যেভাবে হয় আমরা তার সেভাবেই শাস্তির ব্যবস্থা করবো।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এটাই চরিত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকেই তারা একই ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতা চালিয়ে আসছে। এখনো চালাচ্ছে।
দেশবাসীই এখন বিএনপি জামায়াতকে প্রতিরোধ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বোমাবাজদের যারা ধরিয়ে দিতে পারবেন তাদের আমরা পুরষ্কৃত করবো।
যারা বোমা বানায়, সরবরাহ করে, মারে এবং হুকুম দেয় তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, যারা সংলাপের কথা বলেন, তারা আগে সন্ত্রাস বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন এটাই প্রত্যাশা করবো।
জেএ





