রাজধানীর মালিবাগে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটি নির্মাণ কাজ শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মোট নয়জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এদের মধ্যে তিনজন বিদ্যুতস্পৃষ্ঠ হয়ে, তিনজন নির্মাণ কাজ চলাকালে গাড়ির ধাক্কায় এবং নির্মাণ সামগ্রী মাথায় পড়ে দুইজন নিহত হন। এছাড়া প্রায় ২০ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ গত রোববার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান কাঠমিস্ত্রি স্বপন। তিনি স্থানীয় সততা ফার্নিচার নামে একটি দোকানে ও রাতে ফ্লাইওভারে কাজ করতেন। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল ফ্লাইওভারের মগবাজার প্রান্তে নির্মাণ কাজ চলার সময় প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মাজেদ মন্ডল ও আসাদুল মন্ডল নামে সহদোর নিহত হন। গত বছরের ১৬ মার্চ।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে মৌচাক মার্কেটের কাছে নির্মাণ যান্ত্রপাতির আঘাতে রাব্বী আহমেদ ইমন (২২) নামে এক শ্রমিক প্রাণ হারায়। ১৬ জুন বিদ্যুতস্পৃষ্ঠ হয়ে সুমন নামে এক শ্রমিক মারা যান।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, যারা এই নির্মাণ কাজে যুক্ত বা কাজটি করছে তারা খুব একটা দায়িত্ববান বলে মনে হয় না। দক্ষতার অভাব হয়তো ছিলো, কিন্তু সেটা পুষিয়ে যেতো যদি ব্যবস্থাপনাটা সঠিক হতো।

যথেষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়নি, সাবধানতা অবলম্বন করা হয়নি। নির্মাণের সময় আরো অনেক বেশি সাবধান হওয়া উচিত। নিয়মানুযায়ী প্রতি বছর ক্রেনেরমতো ভারি যন্ত্রাংশগুলো পরীক্ষা করা উচিত।

তবে এর চর্চা আছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্স ইন্সটিটিউট এর অধ্যাপক শাহনেওয়াজ হাসনাত-ই-রাব্বী।

উল্লেখ্য, মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও শেষ হয়নি।

চলতি বছরের জুনের মধ্যে ফ্লাওভার নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরুণ দিতে হবে।(সূত্র-দৈনিক সংগ্রাম)

এমবি