সংবিধানজ্ঞ ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, শহীদ মিনার কি কারো বাপের সম্পত্তি? আমরা কি এ জন্যই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে শহীদ মিনার অর্জন করেছিলাম? তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা শাপলা (পুলিশের পোশাকের) পরা মানুষ। ভালো মানুষ। আপনারা (পুলিশ) তো সরকারের বাইরে কিছু করতে পারেন না। কাউকে এতো খুশি করার কী আছে? কাউকে তো চিরদিন ক্ষমতায় রাখা যাবে না। কেউ চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘ওরা কারা। তাদের নাম-পরিচয় দিন। শহীদ মিনার কারো বাপের সম্পত্তি নয়। অনুমতি না থাকলে তারা কি ভাবে আসলো। আমরা কি এ জন্যই সংগ্রাম করে শহীদ মিনার অর্জন করেছি।
তিনি বলেন, আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাদের(শিক্ষার্থীদের) এখনো আধা মিনিটও সহ্য করতেন না। লোক পাঠিয়ে দিতেন, গুণ্ডাদের এখানে এক মুহূর্তও থাকতে দিত না।
তিনি আরো বলেন, আমাকে কিছু মেয়ে অভিযোগ করেছে। তাই বিচারের দাবিতে এখানে এসেছি। আমরা বিএনপি-জামায়াতের লোক নই। দুষ্কৃতিকারীও নই।
এ বিষয়ে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ব্রতী অনুমতি নিলেও তারা ভিন্ন ব্যানারে একাধিক সংগঠন মানববন্ধনে উপস্থিত হয়। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধন করে।
এদিকে এই ঘটনায় জড়িত চারজনকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ফারুক হোসেন, পদার্থবিদ্যা বিভাগের মাসুম, পরিসংখ্যানের জিসান এবং গণিত বিভাগের জহিরুল ইসলাম। এরা সবাই প্রথমবর্ষের ছাত্র এবং শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলামের অনুসারী।
সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামাজিক সংগঠন ‘ব্রতী’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে দুই ভাগ্নীসহ এক মামাকে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে ব্র্রতী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তুমুল উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এই পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
হামলার প্রতিবাদে ব্রতী বিকাল চারটায় শহীদ মিনারে মানবন্ধন আহ্বান করে। তাদের পূর্বঘোষিত মানবন্ধন শুরুর আগেই সেখানে অবস্থান ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ দেড় শতাধিক ছাত্র। অভিযোগ রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ছাত্রলীগই এই পাল্টা কর্মসূচি ডাকে। তবে মানববন্ধনে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।
বিকাল চারটার দিকে ‘ব্রতীর’ মানববন্ধনে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধানজ্ঞ ড. কামাল হোসেনসহ অন্যরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনায় জড়িত চার ছাত্রকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে স্লোগান দেন। তারা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বহিরাগতদের হাত থেকে বাঁচাও’,‘অন্যায় সহ্য করা হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে ব্রতীর মানববন্ধনেও উপস্থিত বক্তারা বক্তব্য দিতে থাকে। চলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। এক পর্যায়ে দুই পক্ষই এক সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করে। ফলে দুই মানববন্ধনের মাইক্রোফোনের আওয়াজে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
গত বুধবার বেগ আর্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইমতিয়াজ আলম বেগ তার দুই ভাগ্নীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় শহীদুল্লাহ হলের ঐ চার ছাত্রলীগ কর্মী ‘অশ্লীল কর্মকাণ্ড’ এর অভিযোগ এনে তাদেরকে মারধর করে।
এছাড়া এ ঘটনায় হলের হাউজ টিউটর অধ্যাপক জসীম উদ্দীনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেআই





