চট্টগ্রামের কাপ্তাই থেকে একটি হাতির বাচ্চা নিয়ে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিলেন মাহুত। পথে হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের মধ্যম কুয়াইশ এলাকায় পৌঁছার পর হাতির বাচ্চাটি হঠাৎ পাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে। মাহুত চেষ্টা করেও বাচ্চাটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এলাকার কয়েকটি ঘরে তাণ্ডব চালিয়ে বাচ্চাটি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ফেলে এর তারের সঙ্গে জড়িয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। সেখানেই মারা যায় হাতির বাচ্চাটি।

গতকাল সোমবার বিকেলে পুকুর থেকে ক্রেন দিয়ে হাতির মরা বাচ্চাটি উদ্ধার করে পুলিশ ও বন বিভাগ। পরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমড়া এলাকায় বন বিভাগের একটি বিটে নিয়ে বাচ্চাটির ময়নাতদন্ত করেন পশু চিকিৎসক। এরপর পাশের পাহাড়ের পাদদেশে মরা বাচ্চাটি মাটি চাপা দেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
হাটহাজারী অঞ্চলের এএসপি লুৎফুর রহমান বলেন, কাপ্তাই থেকে তিনটি পোষা হাতি নিয়ে চট্টগ্রামে আসছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকায় একটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে যায়। যাঁরা বাচ্চাটি নিয়ে আসছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

হাতির বাচ্চার তাণ্ডবের শিকার মধ্যম কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, রোববার রাত আটটার দিকে ঘরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টেলিভিশনে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের খেলা দেখছিলেন তিনি। হঠাৎ একটি হাতি তাঁদের টিনের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালাতে থাকে। এ সময় যে যারমতো দৌড়ে ঘর ছেড়ে প্রাণ বাঁচান। পরে এলাকার একটি পুকুরে রাতেই হাতিটিকে মরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের সহকারী বন সংরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম গতকাল মুঠোফোনে বলেন, হাতিটি পুরুষ ছিল। এর বয়স ছয়-সাত বছর হবে। হাতি পোষার জন্য লাইসেন্স নিতে হয়। হাতিটি যে ব্যক্তি এনেছিলেন, তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির লাইসেন্স ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এমবিএইচ