কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বেড়েছে বানভাসীদের দুর্ভোগ। নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় ঘরবাড়ি থেকে পানি দ্রুত সরে না যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। বন্যাকবলিত এলাকায় চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

রাজিবপুর উপজেলার শিবেরডাংগী এলাকায় পাকা সড়ক ধসে যাওয়ায় রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার সঙ্গে ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রায় ২ শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় দুঃচিন্তায় পড়েছে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থী, শিক্ষকরা ও অবিভাবক।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘বন্যার কারণে জেলায় ১৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বাড়তি ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে।’

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ মৌসুমি ফসল প্রায় ২ সপ্তাহ থেকে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এ সব ফসলের বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মণ্ডল জানান, বন্যাপরবর্তী সময়ে কৃষকদের পুষিয়ে দিতে বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হবে।’

দুই সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা অববাহিকায় চরাঞ্চলগুলো তলিয়ে থাকায় বন্যাকবলিত হাজার হাজার মানুষ নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় আশ্রয় নিয়ে দুর্বিষহ দিন পার করছে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উচু স্থানে গবাদিপশুসহ আশ্রয় নেওয়া মানুষ কষ্টে দিন পার করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায়, খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে অনেক পরিবার। অন্যদিকে, চরাঞ্চলগুলো তলিয়ে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে বানভাসীরা।

জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ৯শ’ মেট্রিক টন চাল ও ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেলেও এখনও বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও কমেছে ধরলা নদীর পানি।

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই