চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসে ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ (ওজনমাপক যন্ত্র) ব্যবহার না করায় সরকার বছরে কমপক্ষে ৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এ খাদে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হওবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) অবহেলা ও রহস্যজনক কারণে ওজনমাপক যন্ত্র দুটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
৩/৪ মাস আগে নির্মিত হয়ে গেলেও অজানা কারণে তা’ ব্যবহার করছে না স্থানীয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বা ফেরির লোকজন। মন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে সময়ক্ষেপণ করছে তারা।
চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসে প্রতিদিন গড়ে একশ’ ৫০ থেকে দুশ’ গাড়ি পার হয়। এ ফেরি দিয়ে পার হওয়া গাড়িগুলো বহনক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ নিয়ে চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী মালবাহী গাড়িগুলো ১৮ অথবা ২৩ টন ওজনের (গাড়ির ওজনসহ) বিনাশুল্কে পার হবে। আর অতিরিক্ত ওজনের গাড়িগুলোকে টনপ্রতি একশ’ ৬০ টাকা হারে ফেরি পারাপারের সময় টাকা বেশি দিতে হয়।
একটি জরিপে দেখা যায়, চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসে চলাচলকারী গাড়িগুলো অতিরিক্ত কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ টন বেশি ওজন নিয়ে যাতায়াত করে। সে হিসেবে গড়ে দিনে প্রায় দুই লাখ টাকা এই অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি থেকে রাজস্ব আয় করা সম্ভব। সে হিসেবে বছরে কমপক্ষে ৬ কোটি টাকা এ খাতে আয় হবে সরকারের।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ফেরিঘাট এলাকাসমূহে এই ওজনমাপক যন্ত্র স্থাপিত হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ওজনের গাড়িগুলো বেশি ভাড়া দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি রুটে ওজনমাপক যন্ত্র কাজ না করায় বিভিন্ন রুটের গাড়িগুলো এখান দিয়ে চলাচল করে। এতে ফেরির ইজারাদারসহ অন্যান্যরা এই সুবিধা নিয়ে তাদের কাছ থেকে বাড়তি কয়েক হাজার টাকা লুটে নেয়।
প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে চাঁদপুরের হরিণায় এবং শরীয়তপুরের নরসিংহপুরে ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩/৪ মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষও হয়ে যায়। কিন্তু বাড়তি সুবিধা আদায় করতেই কর্তৃপক্ষ এবং ইজারাদার এর ব্যবহার শুরু করছে না।
বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম শিহানের সাথে মোবাইলে (০১৫৫২-৩৮২৫১২) কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে ফেরি সার্ভিসের ম্যানেজার মো. ইমরানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আগামীকাল নৌপরিবহণমন্ত্রী ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ উদ্বোধন করবেন। এরপরেই এটার ব্যবহার শুরু করা হবে।
জেআই





