ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এক ব্যক্তির ডাক্তারের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা একপর্যায়ে হাসপাতালের গেট ভাংচুর করে হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানায়।

গত ১৬ এপ্রিল জেলা মাসিক উন্নয়ন সভায় হরিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান স্থানীয়রা এই দাবি তুলে ধরেন। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, হরিপুর উপজেলা হাসপাতালের (হেল্থ কমপ্লেক্স) বেহাল অবস্থা। ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া থাকলেও চিকিৎসের অভাবে ঐ উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ প্রায় সময় ডাক্তাররা উপস্থিত থাকেননা হাসপাতালে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট ডেপুটি কমান্ডার সোলায়মান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার। তার অভিযোগ যেখানে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেনা! অযথা সরকারের তহবিল খালি হবে এটা হরিপুরের মানুষ মেনে নিতে পারছে না। একই সুর মিলালেন হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউল ইসলাম মংলা ।

গত ১১ এপ্রিল কালবৈশাখীর ঝড়ের তান্ডবে সীমান্তে সোলার প্যানেল ভেঙ্গে পড়ে। এই প্যানেলের আঘাতে উপজেলার কান্দাল গ্রামের খোরশেদ আলম সরকার মানিক (৩২) ও তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৬) গুরুতর জখম হন। ঐ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হরিপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় বিনা চিকিৎসায় খোরশেদ আলম সরকার মারা যান। মৌসুমীকে পরে রাণীশংকৈল উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের গেট ভাংচুর ও বিক্ষোভ করে। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে,হরিপুর হেল্থ কমপ্লেক্স সহ উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে এখন ১ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছে। হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডা.অমিত কুমার ঘোষ বলেন,তার পক্ষে একাই এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান,তাকে ডেপুটিশনে (প্রেষণে) হরিপুরে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক্স-রে মেশিন,এম্বুলেন্স,ইসিজি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। সার্জারী ও অর্থপেডিক চিকিৎসার যন্ত্র পাতিও নষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা.আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন,ঐ উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার পোষ্টিং দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন ছুটিতে আছে।

সোহেল পারভেজ/জেড