ঢাকা: ভিভিআইপি, ভিআইপি নিরাপত্তা ও প্রটোকলে ব্যস্ততা কমছে না পুলিশের। নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারি ও রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন প্রটোকলের দিকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পুলিশকে। এ যেন 'বোঝার উপর শাকের আটি'।
শুধু তাই নয় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তাদের বাসভবনের নিরাপত্তা এবং বিশেষ স্থাপনার নিরাপত্তার কাজেও পুলিশকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা,জনগণের সুরক্ষা এবং আইন-শৃংখলা রক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু অন্যকাজে পুলিশকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় বলে আসল দায়িত্বটিই সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
আইন শৃঙ্খলার অবনতি হলে দোষ চাপানো হয় পুলিশের উপর। আবার ভিআইপিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও দোষ চাপে পুলিশের উপর। এমন উভয় সঙ্কটে রয়েছে পুলিশ। পুলিশের উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী দেশের জনগণের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা নগণ্য। ১২ শ নাগরিকের বিপরীতে মাত্র একজন পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে। এর ফলে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব সময়ই চাপে থাকতে হয় পুলিশকে।
এছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তার কাজ তো রুটিন কাজ। পুলিশের এসব ব্যস্ততার কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে বেশি সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনবল প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে হাজার দুয়েক রয়েছে সিভিল সদস্য।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের ৯ হাজার সদস্য রাত-দিন কাজ করছেন সরকারি ভিভিআইপি-ভিআইপি প্রটোকল এবং সরকারি দলের বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির নিরাপত্তা ও স্থাপনায়,বাড়ি-গাড়ির গার্ড ডিউটিতে। এসব কারণে খোদ অরক্ষিত হয়ে পড়ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৮টি থানা ও ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকা। রাজধানীতে বিগত কয়েক মাসে দিনে-দুপুরেই ঘটেছে খুন,হত্যার চেষ্টা,ছিনতাইসহ বহুমাত্রিক অপরাধ। কিন্তু এসব অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না পুলিশ। এর পিছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পুলিশী নজরদারির অভাবের বিষয়টি।
তবে, ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন,জনবল যা আছে তা অপর্যাপ্ত নয়। বরং অন্য যে কোনো মহানগরীর তুলনায় কয়েক গুন বেশি। এতদ সত্ত্বেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই দ্রুত সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
সরকারের মন্ত্রী,উপদেষ্টাবহর আর সরকারদলীয় এমপিদের প্রটোকলেই বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে পুলিশের। প্রায় প্রতিদিনই গড়ে মন্ত্রী-উপদেষ্টা আর এমপিসহ ভিআইপিদের ১০-১৫টি অনুষ্ঠান থাকে। এক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রী যদি সচিবালয় থেকে মিরপুর এলাকায় যেতে চান তাহলে তার যাত্রাপথের নিরাপত্তার জন্য মতিঝিল, রমনা, তেজগাঁও ও মিরপুর জোনের পুলিশকে রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-দারোগা ও পুলিশ সদস্যদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
পুলিশের মতে, বিরোধী কোনো দল বা জোট যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়, তখন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশকে বাড়তি সময় দিতেই হয়। এ কারণে বিভিন্ন মামলার তদন্ত, অপরাধীদের গ্রেফতার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।
সুশীল সমাজের অভিমত,বর্তমান পুলিশ প্রশাসন চলছে বৃটিশ আমলের প্রণীত আইন দিয়ে। পরিস্থিতির কারণে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, গত বছর টিআইবি প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ প্রশাসন ছিল সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ। তবে পুলিশ প্রশাসনের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তাই পুলিশ প্রশাসনে পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে সংশোধনী এনে তা যুগোপযোগী করতে হবে। সৎ ও পরিশ্রমী নের্তৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করা যেতে পারে। পুলিশকে যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা না হয়, সে জন্য সারাদেশে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা বড় বেশি দরকার।
এব্যাপারে কথা বলা হলে স্পেশাল ব্রাঞ্চের স্টাফ অফিসার মুনসুর আলম কাদেরী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমরা সরকারি রেডবুক অনুযায়ী ভিআইপি, ভিভিআইপি নিরাপত্তা ও প্রটোকলের কাজ করে থাকি। এক্ষেত্রে কোনো ধরণের প্রভাব কাজ করে না। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করা হয়। তবে সরকারি রেডবুকে কি ধরণের প্রটোকল অনুসরণ করার নিয়ম রয়েছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এডিশনাল ডেপুটি ইন্সপেক্টর (জেনারেল অর্গানাইজড ক্রাইম) মো. শাহ আলমের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে সরকারি প্রটোকল পাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা বা জেলা প্রশাসন সাময়িক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে যদি নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগের হয়। তবে প্রটোকলের নিয়মানুযায়ী মন্ত্রী, বিদেশী ভিআইপিরা নিরাপত্তার সুবিধা পাবেন।
মহানগর জয়েন্ট কমিশনার(প্রটেকশন ও প্রটোকল) বেলালুর রহমান বলেন, ভিআইপি প্রটোকল ও প্রটেকশনের ক্ষেত্রে আমাদের আলাদা জনবল রয়েছে। তারা শুধু ভিআইপিদের নিরাপত্তা ও প্রটোকলে ব্যস্ত থাকে। অন্য কোনো কাজ থাকে না। তবে ভিআইপিদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সাময়িকভাবে রাস্তা-ঘাটে জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।
ভিআইপিদের প্রটোকল দিতে গিয়ে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিঘ্নিত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ(বিপিএম) টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রাজনৈতিক চাপ বা অন্য কোনো বিষয় কাজ করে না। ঢাকা সিটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ সদস্য রয়েছে। ভিআইপি প্রটোকলের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দিয়ে জননিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২২ মে(টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই।
[/b]
জাতীয়
পুলিশ প্রটোকল: বোঝার উপর শাকের আটি
ঢাকা: ভিভিআইপি, ভিআইপি নিরাপত্তা ও প্রটোকলে ব্যস্ততা কমছে না পুলিশের। নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারি ও রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন প্রটোকলের দিকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পুলিশকে। এ যেন 'বোঝার উপর শাকের আটি'





