ভারতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় গরু পাচার ঠেকাতে সম্প্রতি বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ তাদের জনবল বৃদ্ধি করেছে কয়েকগুণ।
বাংলাদেশে গরু আসতে বাধা দিচ্ছে বিএসএফ সদস্যরা। গত তিন মাসে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের সর্ববৃহত গরু হাট বেনাপোলের পুটখালি গরু হাটে গরু আসা প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ গরু পাচার বন্ধে চলতি মাসের ১লা এপ্রিল গরু পাচারের প্রধান রুট বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন বিএসএফ সদস্যদের । তার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে গরু আসার সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় গরুর সবচাইতে বড় ‘খাটাল’ বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্ত। খাটালটির নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে প্রতিদিন এই খাটালে গড়ে তিন হাজার গরু ও মহিষ আসতো। এখন তা কমে দেড় থেকে ১/২’শ তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফ্ফার সরদার জানান, জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন’র পর ভারত থেকে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লীর বিধানসভার নির্বাচন শেষ হলেও গরু আসা শুরু হয়নি। বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের চোরাই পথে ২/৪টি গরু আসেছে।
যশোরের নাভারন গবাদি পশুর শুল্ক করিডোরের রাজস্ব কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, নাভারনে ২০১৪ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে গরু করিডোর থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৮টি গরু-মহিষ’র রাজস্ব আদায় হয়েছে। অথচ চলতি বছরের একই সময় ওপার থেকে এসেছে মাত্র ৩৭ হাজার ৪৮৭টি গরু-মহিষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ৮ হাজার ৭০০ এবং মার্চ এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯২-এ।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে গরু এসেছিল ৪৬ হাজার ২১টি। আর মার্চে আসে ৪২ হাজার ২১৫টি। ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় বাজারে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। তিন মাস আগেও ২১০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি মুল্যে গরুর মাংস বিক্রি হতো। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকায়।
২৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে: কর্নেল আ: রহিম জানান, ভারতে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গরু পাচার ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে পুটখালীর বিপরীতে বিএসএফ’র জনবল বৃদ্ধি করা হযেছে। সীমান্ত পথে বাংলাদেশে গরু আসতে বাধা দিচেছ বিএসএফ সদস্যরা। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গরু আসা। উল্লেখ্য বাংলাদেশে গরু পাঠিয়ে ভারত প্রতি বছর ৩৯ হাজার কোটি রুপী আয় করে থাকে।
ইআর





