বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত চারদিনেই দেড় শতাধিক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে উপজেলার ব্যবসায়িক বন্দর হরিনাথপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গৃহহারা পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলেও কোনো সহায়তা পায়নি।
হরিনাথপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হক মুন্না জানালেন, বছরের পর বছর ধরে মেঘনার ভাঙনে হরিনাথপুর এবং ধূলখোলা ইউনিয়নের শত শত বসতঘর এবং স্থাপনা বিলীন হয়েছে। চারদিন ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে হরিনাথপুরের দেড়শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। তাদের কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দশ কেজি করে চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে মাত্র। আর কোনো সহায়তা পায়নি ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো।
মুন্না আরও জানান, চার বছর আগে তৎকলীন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন হিজলায় মেঘনার ভাঙন দেখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- স্থায়ী পদক্ষেপ নিবেন। সেই থেকে আজপর্যন্ত কোনো ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। নদী ভাঙনরোধে প্রধান মন্ত্রীর দফতর এবং জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য ধর্ণা দিয়েছেন বহুবার। কোনো সুখবর পাননি। তবে স্থায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া না হলে হরিনাথপুর বাজার এবং পুরাতন হিজলার পুরোটাই বিলীন হবে মেঘনায়- এমনটাই জানালেন তিনি।
টুমচর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, ইতিমধ্যে হরিনাথপুর বাজারের ৮/১০টি দোকান, টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। বদরটুনি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রয়েছে ভাঙনের মুখে।
এছাড়াও হরিনাথপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ফাজিল মাদ্রাসা, তিনটি মন্দির, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরাতন হিজলার বেশিরভাগ এলাকা এখন হুমকির মুখে।
তিনি আরও জানান, মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হিজলার বাউশিয়া, পুরাতন হিজলার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে প্লাবিত হয়েছে ৩ হাজার ঘরবাড়ি। তলিয়েছে ফসলি জমি।
উপজেলা ব্যাসায়ীক প্রাণকেন্দ্র হরিনাথপুর বাজারের ব্যাবসায়ী আক্কাস আলী জানান, এই বাজার নদীতে হারিয়ে গেলে ৮ থেকে ৯শ দোকানদার কর্মহীন হয়ে পরবেন। কয়েক কোটি টাকার স্থাপনাসহ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ব্যাবসায়ীরা। তাদের দিকে তাকিয়ে এখনই মেঘনার ভাঙনরোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এছাড়াও তিনি আশঙ্কা করছেন মেঘনার ভাঙন অব্যাহত থাকলে এবং প্রতিরোধ করা না হলে ঐতিহ্যবাহী হরিনাথপুর ইউনিয়ন ও বড়জালিয়া ইউনিয়নের পুরাতন হিজলা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদি জানান, ভাঙনরোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাদের পরিষদের নেই। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেছেন।
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





