কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কম বেশি প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও গ্রামে বৈশাখী মেলা আসলেই ধুম পড়ে যায় জমজমাট জুয়া খেলার আসরের । যাদের জন্ম গ্রামে তাদের সেই ছোট বেলা থেকেই জুয়া খেলার যে একটা রেওয়াজ চলে আসছে এই বৈশাখী মেলায় তা তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে আসছেন। এতে করে কৌতুহলের বশেই এই বৈশাখের প্রথম দিনেই জুয়া খেলার সাথে পরিচয় হয়ে যায় অনেক কিশোর যুবকের। পরবর্তী জীবনে এই কিশোর বা যুবকটি তলিয়ে যায় অন্ধকার রাজ্যে।

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী জানান, আমি ব্যক্তিগত ভাবে দেখে আসছি আমার গ্রাম সহ পার্শ্ববতী গ্রাম গুলোতে জুয়া খেলার এই রীতি টাকে। শুধু জুয়া খেলাই নয় সেখানে মদ,গাঁজা বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে প্রকাশ্যে। এসময় প্রশাসন এদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোয়ারা পেয়ে থাকে তাই তারা নীরব দর্শকের মত অভিনয় করে।

এখন প্রশ্ন হলো পহেলা বৈশাখ বাংঙ্গালী জাতির একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। এই দিনে সবাই পুরাতন বছরের ভুল গুলোকে শুধরে নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে সবাই। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি দেখছি? দেখছি তার উল্টোটা। বছরের প্রথম দিনেই নানা প্রকার খারাপ কাজ দিয়ে আমরা উদযাপন করি। গ্রামে পহেলা বৈশাখে আমি যা দেখে আসছি সেই ছোট বেলা থেকে এখনো সেই রকমই আছে বিশেষ করে জুয়াড়িদের যে জুয়ার আসর তা কি আদৌ বন্ধ হবার নয়? পুলিশ হল জনগণের বন্ধু কিন্তু তাঁদের নীতি নৈতিকতা কি সবকালেই কি প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে।

সবশেষে (উপজেলা চেয়ারম্যান) আমি ব্যক্তিগত ভাবে সচেতন মানুষ হিসাবে চাই এই জুয়া খেলা অন্তত এই পহেলা বৈশাখের মেলাতে বন্ধ থাকবে। জুয়া খেলার যে রীতি তা বন্ধ হবে শীঘ্রই এই আশা করি এবং যথাযথ কতৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি।

উল্লেখ্য ১৪ এপ্রিল (১ পহেলা বৈশাখ) আর এই রৌমারী উপজেলার গ্রামগঞ্জে জুয়া খেলা বন্ধ থাকবে বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী। এবারের পহেলা বৈশাখ উৎসবে কোন জুয়া ও অবৈধ খেলাধুলা না হয় সেই বিষয়ে জনসাধারণ কে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে রৌমারী থানার ওসি এ বি সাজেদুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখে জুয়া বা অন্য কোন অবৈধ খেলা হবে না এবং কোন স্থানে যদি জুয়া খেলা হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পহেলা বৈশাখে জুয়া খেলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, যে আপাতত এবারের পহেলা বৈশাখে কোন অবৈধ খেলা হতে দেয়া হবে না। আর যদি জুয়ার আসর বসে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সেই সাথে স্থানীয় লোকজনকে সহযোগিতা করার জন্য বলা গেল।

 

এমআইএস।