বংশালে ফাটল ধরা চার ভবনের একটিকে পুরোপুরি সিলগালা এবং বাকি তিনটিকে আংশিক সিলগালা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এছাড়া প্রতিটি ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। রাজউকের টেকনিক্যাল কমিটি ভবনগুলোর মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিদ্দিকবাজার এলাকার ফায়ার সার্ভিস হেড কোয়ার্টারসের পেছনে ৯৯, ৯৯/১, ৯৯/২, ১০০ এবং ১০০/১ এই পাঁচটি ভবনের মধ্যে ৯৯ নম্বর ভবনটি একটু আলাদা হলেও বাকি চারটি ভবনের দেয়াল একেবারেই লাগানো। ছোট ছোট জায়গার ওপর ভবনগুলো নির্মিত। সে কারণে মাটির নিচের ভিত্তিও সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ৯৯/২ ভবনটি মাঝখানে হওয়ায় পাশের ৯৯/১, ১০০ এবং ১০০/২ নম্বর ভবনের গায়ে হেলে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০০ নম্বর ভবনটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, ৯৯/২ ভবনটি সিরাজুল নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনতলা থাকা অবস্থায় ছয় বছর আগে ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নেন ওয়ালিদ নামের এক ব্যক্তি। এরপর তিনি ওই ভবনের ওপরে আরো একটি ফ্লোর করেন। পাশের ৯৯/১ ভবনটি দোতলা থাকা অবস্থায় জালাল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মহসিন নামে মিডফোর্ডের এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী ১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কিনে নেন। এরপর তিনি ওই ভবনের ওপর আরো পাঁচটি ফ্লোর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ১০০ ও ১০০/২ নম্বর ভবনটি ঠিকভাবেই করা ছিল। তার পরও মাঝখানের ভবনটির জন্য এ দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বেশি ক্ষতি হওয়ায় ১০০ নম্বর ভবনের মালিক বিল্লাল ও ১০০/২ নম্বর মালিক আনিছুর রহমান ভবন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ৯৯/২ ভবনের বর্তমান মালিক ওয়ালিদ পলাতক রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পাশের দুই ভবনের মালিক বিল্লাল ও আনিছুর জানান, ৯৯/১ ভবনটি যখন অবৈধভাবে তৈরি করা হয়, তখন ভবনের মালিক ছাদ-ঢালাই মেশিন ওপরে নিয়ে ঢালাই করেছেন। অর্থাৎ তিন তলা করার সময় দ্বিতীয় তলায় মেশিন ও সাততলা করার সময় ছয়তলায় মেশিন বসিয়ে ছাদ-ঢালাইয়ের কাজ করেছে। এতে পাশের ভবনগুলো ঝাঁকুনিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে সব লোককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালপত্র বের করে ফেলা হয়েছে। এখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিতাস গ্যাসের প্রতিনিধি ও ডেসকোর প্রতিনিধিরা এসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এ ছাড়া ওয়াসার লোকজন এসে পানির লাইনও বন্ধ করে দিয়েছেন।’

বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ফকির জানান, মালিককে খোঁজা হচ্ছে। সেখানে যাতে কেউ প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে নজর রাখা হবে।’তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, যা-কিছুই ঘটুক, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, এটাই শান্তির কথা।

ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই