ধামরাইয়ের বংশী নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা। ফলে নদীতে বিশাল জায়গাজুড়ে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বংশী নদী হুমকির মুখে পড়েছে।
এ কারণে আগামী বর্ষা মৌসুমে ওই নদীর পাশের বসত বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কাউজারকুন্ড এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা।
বংশী নদীর পাশে কাউজারকুন্ডর এলাকাবাসী জানায়, বংশী নদীর আশপাশে তীর থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হেমায়েত কবির মতিন এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে।
আজ সকালে কাউজারকুন্ড এলাকার বংশী নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর থেকে মাটি কেটে তা ট্রলারে ভরছে একদল শ্রমিক। মাটিবোঝাই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারগুলো দ্রুত ছেড়ে যাচ্ছে। এভাবে মাটি কাটার ফলে বংশী নদীর তীরে বিশাল জায়গাজুড়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে।
সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সর্দার সোহেল জানান, ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হেমায়েত কবির মতিন এর নির্দেশে তারা মাটি কাটার কাজ চালিয়ে আসছেন। সেখান থেকে ট্রলারে মাটি ভরে তা বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, ধামরাই উপজেলার অসাধু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রচ্ছায়ায় বংশী নদীর তীর এলাকায় মাটিখেকো একটি চক্র গড়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে তারা বংশী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলে বংশী নদীর তীর ভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বংশী নদীর তীর থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমএম





