বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি কমতে থাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলা কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রাম থেকে কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের মানুষরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন। নদী ভাঙনে কর্ণিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিজ কর্নিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক হুমকি মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে স্কুল দুটি নদীতে বিলীন হবার আশংকা করা হচ্ছে।

গত দুই সপ্তাহে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার কামালপুর, চন্দনবাইশা ও কুতুবপুর  ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি  নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কুতুবপুর ইউনিয়নের নিজ কর্নিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দৌলতজ্জামান জানান,  যমুনার অব্যাহত ভাঙনে যে কোন সময় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ।

সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুতজ্জামান জানান, নিজ কর্নিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। তাই বিদ্যালয়টি পার্শ্ববতী স্থানে স্থানান্তর করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজীউল ইসলাম গাজী জানান, গত এক সপ্তাহে ধলিরকান্দি ও বয়রাকান্দি গ্রামের গ্রামে নদী ভাঙনে শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

নদী ভাঙনে চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকায় এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত পাকা রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, শেখপাড়া, আটাচর, কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ, দড়িপাড়া, গোদাখালী, ইছামারা গ্রামবাসী আতংকের মধ্যে রয়েছে।

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ড সারিয়াকান্দির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মোত্তালেব নদী ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজননীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেআই