মামলা থেকে বাঁচতে মৃতের তালিকায় নাম লেখান আবদুস সালাম ওরফে ছালামত (৬০)। এ জন্য ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মৃত্যুসনদ নেন। একসময় আদালত থেকে খালাসও পেয়ে যান ছালামত। বিধি বাম! মৃত প্রমাণের ১৪ বছর পর আবিষ্কার হলেন তিনি। গোয়েন্দা পুলিশ 'মৃত ছালামত'কে গ্রেফতার করলে তোলপাড় শুরু হয় সিলেটজুড়ে। গ্রেফতারের পর গতকাল
সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ছালামত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা গ্রামের মৃত খুরশেদ আলীর ছেলে। গত রোববার বিকালে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ উপজেলার দুবাগ ইউনিয়ন অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে (জিআর-৫৩ ও ৯১/১৯৯৯) একটি ও মাদক আইনে দুটি মামলা থেকে বাঁচতে নিজেকে মৃত নাটক সাজান। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে তার মৃত্যুর সনদও দাখিল করা হয়। ২০০১ সালে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে 'মৃত' ছালামত মাদক মামলায় খালাস পেয়ে যান। রোববার গ্রেফতার হওয়ার পর এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশকে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর ছদ্মবেশে একই গ্রামে তার ভগ্নিপতি রফই মিয়ার বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ইউনুস মিয়া জানান, মৃত্যু সনদ আদালতে দাখিলের পর তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিয়ানীবাজার থানাকে নির্দেশ দেন বিচারক। থানার তৎকালীন উপসহকারী পরিদর্শক আবু তাহের তদন্ত না করেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে আসামিকে খালাস দেন।
এ ব্যাপারে মৃত্যু সনদ ইস্যুকারী তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা, ২২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





