পাঁচ শতাংশ নতুন ভোটারকে তালিকাভুক্ত করার টার্গেট নিয়ে  হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে টার্গেট পূরণ করতে পারেনি কমিশন। দুই ধাপে মাত্র ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত  হয়েছে।  

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রথম ধাপে ৫ শতাংশ ভোটারকে টার্গেট নিলে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ৫শতাংশ টার্গেট থাকলেও ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়। তবে কয়েকটি উপজেলায় তালিকাবুক্ত হয়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি ভোটার। 

বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো রিপোর্ট থেকে জানা গেছে,৬ শতাংশের ওপরে ভোটারের এলাকা হচ্ছে-কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮.৪১ শতাংশ, চকরিয়ায় ৬.২২ শতাংশ, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৬.৫২ শতাংশ, ইটনায় ৬.৩২ শতাংশ, বাজিতপুরে ৬.৮৪ শতাংশ, মিঠামইনে ৮.২৭ শতাংশ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৮.২৭ শতাংশ, লাঙ্গলকোটে ৯.৮৪ শতাংশ, কড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬.৩২ শতাংশ, গাজীপুরের শ্রীপুরে ৬.১৫ শতাংশ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ৭.২৫ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। 

এছাড়া সদরে মুকসুদপুরে ৫.৫১ শতাংশ, চট্টগ্রামের চন্দনাইশে  ৫.৭১ শতাংশ, ফটিকছড়িতে  ৪.৮৬ শতাংশ, শীতাকুন্ডে ৪.০৬ শতাংশ, চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে  ৪.১৮ শতাংশ, হাইমচরে ৪.৯ শতাংশ, হাজিগঞ্জে  ৪.২২ শতাংশ, জামালপুরের মাদারগঞ্জে  ৪.৪৫ শতাংশ, ঝালকাঠি সদরে  ৪.১৪ শতাংশ, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ৪.৯৬ শতাংশ, মহেশপুরে ৪.০২ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, নওগাঁর পোরশায় ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, সাপাহারে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, নরসিংদীর বেলাবোতে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ, মনোহরদীতে ২দশমিক ২৩ শতাংশ, নীলফামারীর জলঢাকায় ২ দশমিক ৭১ শতাংশ, ডোমারে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, নোয়াখালী সদরে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ, সোনাইমুড়িতে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ,

পটুয়াখালীর দুমকীতে ৪  শতাংশ, ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নগরকান্দায় ২দশমিক ৮৪ শতাংশ, সালথায় ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ফেনীর দাগনভূঞায় ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, পরশুরামে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ, বগুড়ার শাহজাহানপুরে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, তালতলীতে  ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, বরিশালের হিজলায়  ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, মোরেলগঞ্জে  ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, রামপালে  ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, শরনখোলায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ,

বান্দরবানের লামায়  ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, ভোলার তজুমদ্দিনে  ২ দশমিক ৯২ শতাংশ, মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, বড়লেখায় ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, রাজনগরে ৩ দশমিক ১১ শতাংশ, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে  ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, গৌরীপুরে  ৩ দশমিক ২১ শতাংশ, ধোবাউড়ায়  ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে  ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ,

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে  ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ১  দশমিক ৯৪ শতাংশ, রামগতিতে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ, রায়পুরে  ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে  ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, জাজিরায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, কালীগঞ্জে  ৩  দশমিক ৫২ শতাংশ, শ্যামনগরে  ৩  দশমিক ৬১ শতাংশ,

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে  ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, কামারখন্দে   ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ, সিলেটের গোলাপগঞ্জে  ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, জকিগঞ্জে ৩  দশমিক ০২ শতাংশ, দক্ষিণ সুরমায়  ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বালাগঞ্জে  ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সুনামগঞ্জের ছাতকে  ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে  ৩  দশমিক ৬৮ শতাংশ, বাহুবলে  দশমিক ৯২ শতাংশ ও লাখাই উপজেলায় ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোটার বেড়েছে। এছাড়া জয়পুরহাটে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে।  

এদিকে তৃতীয় ধাপে ১১৫ উপজেলায়  ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ধাপে ৫ শতাংশের বেশী ভোটারকে তালিকাভুক্ত করার জন্য টার্গেট পূরনের জন্য  বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।   

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, প্রথম ধাপে ভোটার বৃদ্ধি কিছুটা কম হলেও দ্বিতীয় ধাপে তা বেড়েছে। আশাকরি পরবর্তী ধাপে তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি মনিটরিং করবে বলে জানান তিনি।  

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রথম ধাপে ১৮১ উপজেলার,দ্বিতীয় ধাপে ২১৮ উপজেলার তথ্য সংগ্রহ শেষ করেছে ইসি। তৃতীয় ধাপে ১১৫ উপজেলায় ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ কার্যক্রম  শুরু হবে।

ঢাকা. এএম, ১১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ