অসহায় কারাবন্দিদের আইনী সহায়তা দিয়ে তাদের কারা মুক্ত করতে কাজ করছে মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল এসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স এন্ড পার্সনস (এলএএইচপি)।
সংগঠনটি ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১০ বছরে বিভিন্ন মেয়াদে ৫৫৮ জন অসহায় কারাবন্দিকে জামিনে মুক্ত করেছে। এসব বন্দী মিথ্যা মামলায় কিংবা অল্প অপরাধের জন্য চার মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে কারা ভোগ করছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে এলএএইচপি‘র কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করেন, এলএএইচপির চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল কাওসার ভুইয়া, মিডিয়া এডভাইজার হিরা তালুকদার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে এলএএইচপির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫৫৮ জন অসহায় কারাবন্দিকে মুক্ত করেছি। এনজিও ব্যুরো নিবন্ধিত বাংলদেশের আর কোনো বেসরকারি মানব সেবামূলক সংস্থা এতো সংখ্যক অসহায় কারবন্দির জামিন করাতে সক্ষম হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নোয়াখালী, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ ২২ জেলায় এলএএইচপি নিয়োজিত একাধিক প্যানেল আইনজীবীর সমন্বয়ে অসহায় কারাবন্দিদের আইনী সহায়তা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে দেশের সর্বত্র আমাদের আইনী সহায়তাকে বিস্তৃত করতে প্রতিটি জেলায় প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করার কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই অসহায়ত্ব আর মিথ্যা অভিযোগের দায়ভার মাথায় নিয়ে বিনা বিচারে এখনো জেল খাটছেন দেশে বিভিন্ন কারাগারে। তাদের যেন আর কারাগারের নির্মম অন্ধকারে বিমর্ষ জীবন কাটাতে না হয় সে জন্য কাজ করছে এলএএইচপি। পাশাপাশি আমরা যাদের কারামুক্ত করেছি তাদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। কারামুক্তির পর বাকি জীবনটা যেন সুন্দর ভাবে কাটে সে লক্ষ্যে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
রাশেদুল কাওসার জীবন বলেন, যে সকল ব্যক্তি মামলা সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে অথবা অন্যায়ভাবে যাদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায় তাদেরকে এলএএইচপি ‘অসহায়’ হিসেবে বিবেচনা করে। এই ধরনের অসহায় কারাবন্দিদের জামিনের জন্য কাজ করে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত যে কোন মামলার ক্ষেত্রে এবং দন্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারার ক্ষেত্রে আসামী প্রত্যক্ষভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার জামিনের জন্য এলএএইচপি কাজ করে না। তবে, এ ধরণের মামলার আসামিকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে সেক্ষেত্রে সংগঠনটি জামিনের ব্যাপারে কাজ করে।
এসএম





