গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা বহুমূখী দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
সরজেমিনে জানা যায়, সুপার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে যোগসাজস করে শিক্ষক নিয়োগ, মাদ্রাসা মাঠের গাছ বিক্রি, জমি বন্দক, মাদ্রাসায় ভকেশনাল শাখা খুলে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অবৈধ পথে সংগৃহিত কমপক্ষে অর্ধ কোটি টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন।
উল্লেখিত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মণ্ডল ২০১২ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এসময় তিনি মাদ্রাসার 'সুপারিটেন্ডেন্ট' মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন।
নুতন কমিটির সভাপতি হিসেবে আমজাদ হোসেন মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদ্রাসার সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন মোল্লা একে অপরের সহযোগিতায় উল্লেখিত নগদ টাকাসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৬০ শতাংশ জমি বন্দক রাখা কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা, মাদ্রাসার মাঠে রোপন করা কমপক্ষে ৪০টি মেহগনি গাছ ৫ হাজার টাকা হিসেবে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা, ২টি রোড রেইন্ট্রি গাছ ৩০ হাজার টাকা হিসেবে ৬০ হাজার টাকা, ১২টি দেশি রেইন্ট্রি গাছ ২ হাজার টাকা হিসেবে ২৪ হাজার টাকা, অবসর প্রাপ্ত এমএলএসএস এর ছেলেকে নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা, ভকেশনাল শাখায় সিরাজুল ইসলামের কন্যা রুমি ও সাহার কন্যা আরেক রুমির কাছ থেকে কমপক্ষে আড়াই লক্ষ টাকা করে ৫ লক্ষ টাকা, ২০১১ ইং সালে আনারুল ইসলাম, রাজেকুল ইসলাম ও নুরুন্নাহার বেগম নামের ৩ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার সময় সাড়ে ৪ লক্ষ করে কমপক্ষে ১৩ লক্ষ টাকা, শিরিনা আকতার নামের এক শিক্ষিকার কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকাসহ কমপক্ষে অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে রাজেকুল ইসলাম ও নুরুন্নাহার বেগমকে দুই দফা নিয়োগ প্রদান করেন। এর মধ্যে রাজেকুল ইসলাম ও নুরুন্নাহার বেগমকে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে প্রথম দফার নিয়োগে অনিবার্য কারণে তাদের বিল ধরাতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে ভুয়া নিবন্ধন দেখিয়ে পূনঃনিয়োগ প্রদান করেন।
এ নিয়োগেও বিল ধরানোর অজুহাত দেখিয়ে পুনরায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। আদায়কৃত টিউশন ফি শিক্ষকদের প্রাপ্য হলেও ২০০৫ সাল থেকে মাদ্রাসায় টিউশন ফি আদায়ের টাকা কোন শিক্ষককে না দিয়ে উন্নয়ন কাজের নাম করে আত্মসাৎ করেন।
এ ব্যাপারে গত ২৩ মে ২০১৫ তারিখে মাদ্রাসার সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের মতামত জানতে চাইলে তিনি আমাদের প্রতিনিধির সামনেই স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
তিনি আরো বলেন- টাকা না নিলে অফিসিয়াল কাজগুলো করবো কিভাবে? ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে মোবাইলে গত ২ মে ২০১৫ তারিখে যোগাযোগ করে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে মতামত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি প্রদানের সুরে বলেন- গাইবান্ধায় আমাদেরও অনেক সাংবাদিক, বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রড় রড় আত্মীয়-স্বজন আছে। তারপরও তার মতামত জানার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।
এলাকার সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, “চোরের মায়ের বড় গলা” হতেই পারে। তাই তারা জরুরী ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এমকে





