মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়ন থেকে কালকিনির সংযোগ সড়কের বড়চর লক্ষিপুর গ্রামে আড়িয়াল খা ছোট নদীর সেতুর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ২ বছর বন্ধ থাকার পর সেতুর কাজ শুরু হলে কয়েক দিন আগে মাঝ বরাবর নির্মাণাধীন সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। এসময় মো. সুলতান হোসেন(৪৫) ও তার ছেলে তোতা মিয়া (১০) নামের ২জন আহত হয়েছে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়া ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলজিইডি সুত্রে জানা যায়, বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-১ম পর্যায়ের অধীনে কালকিনি উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়ন থেকে কালকিনির সংযোগ সড়কের বড়চর লক্ষিপুর গ্রামের ছোট নদীর উপর ৮০.০১ মিটার আরসিসি সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬০ টাকার দরপত্র আহবান করে মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। যার প্রেক্ষিতে মেসার্স কাজল কৃষ্ণ দে (জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১১ সালের ৯ জুন ২ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৩১৪ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশের ৩৬৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বরাদ্দের অজু হাতে গত ২বছর সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। এর পর গত ৬মাস আগে ফের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সামগ্রী নিম্মমানের হওয়ায় গত শনিবার বিকালে সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙ্গে পড়ে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন, রমজান আলী, আরাফাত রহমান, আ: মজিদ মিঞা, ইউনুস সরদার ও কামালসহ বেশ কয়েকজন জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজ করায় সেখানে কেউ কাজের মান দেখতে যেতে পারে না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙ্গে পড়েছে। এ ব্যপারেও কথা বলতে গেলে আমাদের মার ধর করতে আসে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজল কৃষ্ণ দে'র (জেবি) সত্ত্বাধিকারী কাজল কৃষ্ণ দে বলেন, রাজমিস্ত্রির ভুল সিদ্ধান্তে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। আমি যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কালকিনি উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জহুরুল ইসলাম জানান আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি সেতুর নিচের সেন্টারিং এর কলম (পিলার) দুর্বল হওয়ায় তা কাত হয়ে পড়ে গিয়েছে।
জেআই





