রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি 'জঙ্গি আস্তানায়' পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে মুরাদ নামে জেএমবির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় রূপনগর থানার ওসি শহীদ আলমসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোলাগুলিতে রূপনগর থানার ওসি শহীদ আলম, ওসি (তদন্ত) শাহীন ফকির এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুর রহমান আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের নাম মুরাদ ওরফে মেজর মুরাদ। সে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

রূপনগর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপনগর আবাসিক এলাকার ৩৩ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসায় অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও তাদের লক্ষ্য গুলি ছোঁড়ে। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অভিযানের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি ) মো: দিদার আহাম্মদ ঘটনাস্থল থেকে বলেন, অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত জঙ্গিদের একজন মারা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রূপনগর থানার ওসি শহীদ আলম

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, কয়েক দিন আগে ওই বাড়িতে মুরাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ২৮ আগস্ট ওই বাড়িতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ দেখতে পায় যে, বাড়িটি তালা মারা। তবে ভেতরে জিনিসপত্র রয়েছে। এরপর গোয়েন্দারা কোনো কিছুতে হাত না দিয়ে বাড়িওয়ালাকে বলে আসেন ওই ব্যক্তি জিনিসপত্র নিতে আসলে যেন পুলিশ ও ডিবিকে জানানো হয়।

ওই জঙ্গি ফিরে এলে বাড়িওয়ালা তাৎক্ষণিক রূপনগর থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গেলে পু​লিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর। এতে রূপনগর থানার দুই পরিদর্শকসহ কয়েকজন আহত হন। আহত দুই পরিদর্শককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিন ফকির

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান জানান, জঙ্গি আস্তানায় ঢুকতে গেলে ওসি শহীদ আলমের পিঠে ও পাঁজরে ছুরিকাঘাত করে জঙ্গিরা। গভীর ছুরিকাঘাতে ওসির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।

একই সময়ে উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলামও ছুরিকাঘাতের শিকার হন। আর অপর পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির বাম বাহু আর বাম উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পু​লিশ জানায়, গত ২৭ অগাস্ট অভিযানে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার যে বাড়িতে তামিম চৌধুরী নিহত হন ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন মেজর মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট সুত্র আরো জানায়, জঙ্গি মেজর মুরাদ নিহত জঙ্গি তামিম আহমেদ চৌধুরীর নব্য জেএমবির সদস্য ছিল। তিনি তামিমের ডান হাত ছিল এবং গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় অংশগ্রহণকারী জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ছিলেন।

এমবি/কেবি