এজাহার ও একালাবাসী সূত্রে জানা যায়, কোনাপাড়ার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে রাহেনুল ইসলামের (৩০) সাথে শংকরপুরের মৃত আফজাল হোসেনের মেয়ে রিনা বেগমের (২৬) প্রায় ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারে অভাব নিত্য সঙ্গি হয়ে দাড়ায়। সংসারকে অভাব মুক্ত করতে রিনা ঢাকায় গিয়ে চাকুরী নেন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টোরিতে। এর মধ্যে রিনা বেগমের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় ছেলে রাকিবুল হাসান রিফাত (১১)। রিনার চাকুরির বেতনের টাকায় অভাবের সংসারে হাল ধরে। স্বামীর সংসারে অভাব কিছুটা কমে ধীরে ধীরে সুখের সূর্য উঁকি দিতে থাকে। সংসারে আরও দ্রুত আয় বাড়ানোর আশায় বেকার স্বামীকে কাজে ফেরাতে চেষ্টা করে রিনা বেগম। বিভিন্ন ফ্যাক্টোরিতে স্বামী রাহেনুলকে কাজে দিলে সে চাকুরি ছেড়ে দেয়।
এঅবস্থায় উপায় না পেয়ে অজ্ঞাত জীবনের সমস্ত সঞ্চিত টাকা, একটি শখের মোটরবাইক ও ব্যবস্যা করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ তুলে স্বামীকে দেয় রিনা। ব্যবসায় লাভবান হয়ে মোড় ঘুরে যায় রিনা ও রাহেনুলের সংসারের। এরই মাঝে বছর খানেক আগে রিনার চোখে ধরা পড়ে রাহেনুলের অস্বাভাবিক চলা ফেরা। পরে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে ব্যবসার আয়ের অর্থ অন্য মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করে বেড়ায় রাহেনুল। তারপর থেকে চাকুরির বেতনের টাকা ও ব্যবসার থেকে আসা আয়ের হিসেব চায় রিনা। এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বাঁধে। রাহেনুল এবং তার ভাই রাজ্জাক আলী রিনাকে নানা ভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। পরে নিজের কাছে স্ত্রীর জমানো টাকা আত্মসাৎ করতে ফন্দি করে রিনাকে তালাক দেয় রাহেনুল।
অন্যদিকে তালাকের পরিপূর্ণ সময় না পেরুতেই রাহেনুল ফন্দি আঁকেন আরেক নতুন বিয়ের। স্বামী রাহেনুল পুনরায় বিয়ে করবে এবং ছেলে রাকিবুল ইসলাম রিফাত অসুস্থ হয়ে পড়েছে এমন খবর শুনে স্ত্রী রিনা বেগম রাহেনুলের বাড়িতে গেলে রাহেনুল তাকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বাবার বাড়িতে চলে আসে। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়কবার ইউনিয়ন পরিষদে জানালেও আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। পায়নি কোনো প্রতিকার বরং ধামাচাপা চেষ্ঠা করেছে। পরে নিরুপায় হয়ে রিনা বেগম দেনমোহর, ভরণ-পোষণ দাবি করে শনিবার এজাহার করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে রাহেনুলের বাড়িতে গিয়ে রাহেনুলকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই রাজ্জাক আলী বলেন, আমার ভাইকে আবার বিয়ে দেবো। দেখি কে ঠেকাতে পারে। থানায় এজাহার দিয়েছে তো কি হয়েছে! মামলা রেকর্ড হবে না। সব কিছুই প্রসেসিং করে রেখেছি। আগের বউয়ের সাথে ঝগড়া ঝাটি হওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছে আমার ভাই রাহেনুল। তিনি এর বেশি কিছু জানেন না।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এনএইচ





