অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগ ও বড় ধরনের উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে।
শনিবার সকালে হোটেল রেডিসনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামের (বিইএফ) প্রথম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ভিশন ২০৩০: ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইকোনোমিক পলিসি মেকিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজি ফরমুলেশন ইন এ প্লুরালিস্টিক ডেমক্রেসি’ স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মেলনটি শুরু হয়।
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এ দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির আরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধারাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগ ও বড় ধরনের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিদ্যুৎ ও জনশক্তি উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করছি। যা ব্যক্তি বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়বে না। আবার দক্ষ জনশক্তি না থাকলে বড় ধরনের উৎপাদনও সম্ভব না।
মুহিত বলেন, মাইকেল লিপটন তার মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের জন্ম থেকে বর্তমান পর্যন্ত অর্থনীতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তেমন অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়নি। তবে পরবর্তীতে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার জন্য মাইকেল লিপটনকে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পলিসি নির্ধারণে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বিইএফকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ ব্যক্তি খাত নির্ভর দেশ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ইজ এ ল্যান্ড অব ইমপসিবল অ্যাটেইনমেন্ট’। তবে আশির দশকে এ দেশের অর্থনীতিতে তেমন ডেমোগ্রাফিক অগ্রগতি হয়নি। যা পরবর্তীতে দারিদ্র বিমোচন করার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে জমির স্বল্পতা রয়েছে। বিশেষ করে বড় বড় কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায় না। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় সমস্যা। যা আমাদের সমাধান করতে হবে।
জমির ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে খালি এলাকাগুলোতে জনবসতি গড়ে তোলার ব্যবস্থা করছে। আর যে জমি আছে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
জমি ব্যবহারে পরিকল্পনা করা খুবই কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমি ব্যবহারের পরিকল্পনায় জেলা ও উপজেলাকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। যত্রতত্র বড় বড় স্থাপনা তৈরির ফলে আমরা কৃষি জমি হারাচ্ছি। তাই জেলা ও উপজেলাকে সম্পৃক্ত করে জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় ব্যর্থ দিক উল্লেখ করতে গিয়ে আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশে বড় পরিসরে কোনো উৎপাদান করা যায় না, বেকার জনগোষ্টির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়নি এবং পণ্যের মান বাড়ানো যায়নি। যা আমাদের অর্থনীতির বড় ব্যর্থ দিক।
দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন খাত দেশের পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বড় বড় স্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণে ব্যক্তি বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগ স্থিতিশীল রয়েছে। আমরা আগামী বছরগুলোতে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ করবো।
বাংলাদেশ ইকোনোমিক অ্যাসেসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আলমগীরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর, সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, সাসেক্স ইউনিভার্সিটির রিসার্স প্রফেসর মাইকেল লিপটন, অর্থনীতিবিদ খলিকুজ্জামান, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফায়েকুজ্জামান প্রমুখ।
ঢাকা,২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ





