গত ১৬ জুলাই ‘দ্বিতীয় জুলাই শহীদ দিবস’ সরকারিভাবে পালন করা হলেও ঈদগাঁওয়ের একমাত্র শহীদ হিসেবে পরিচিত নুরুল মোস্তফার পরিবার এখনো স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হাফেজ নুরুল মোস্তফা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গজালিয়া এলাকার দিনমজুর শফিউল্লাহর তৃতীয় সন্তান। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি নিহত হন।
শহীদের পিতা শফিউল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিপ্লবের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি তিনি বা তার পরিবার। বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল ছেলে নুরুল মোস্তফা পড়াশোনা শেষ করে পরিবারকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত করবে। নুরুল মোস্তফা কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ ও ৫ আগস্ট ঈদগাঁওয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পরিবারের অজান্তে অংশ নেয় নুরুল মোস্তফা। ৫ আগস্ট ঈদগাঁও থানার সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শফিউল্লাহ বলেন, ছেলেকে হারানোর পর পরিবারটি চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সরকারি স্বীকৃতির বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি বিভিন্ন বিশেষ দিবসেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বা সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নুরুল মোস্তফার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চান তারা।
জুলাই যোদ্ধা অ্যাডভোকেট এসকে আহমদ ফারুকী বলেন, শহীদ নুরুল মোস্তফার স্বীকৃতি দুই বছরেও সম্পন্ন না হওয়া দুঃখজনক। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লেখালেখির পর তদন্ত হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। তবে এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত বিশেষ আদেশে স্বীকৃতি প্রদান এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।
জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির ঈদগাঁও উপজেলা সদস্য সচিব আব্দুর রহিম চৌধুরী বলেন, শহীদ নুরুল মোস্তফার স্বীকৃতির জন্য তিনি নিজেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। দীর্ঘ সময়েও স্বীকৃতি না পাওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শহীদ পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, বিশেষ আদেশের মাধ্যমে স্বীকৃতির জটিলতা নিরসন করে নুরুল মোস্তফাকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নুরুল মোস্তফার সরকারি স্বীকৃতি প্রক্রিয়া আটকে ছিল। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর তৎকালীন পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্তও হয়েছে। তবে বিচার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
এমএম